স্ত্রীর উপর সন্দেহের বলি! শ্বশুর-শাশুড়িকে পুড়িয়ে মারার অপরাধে জামাইয়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

স্ত্রীর অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে— এই সন্দেহের বশে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছিল জামাই। বিদ্বেষের সেই আগুন শেষ পর্যন্ত পুড়িয়ে মারল শ্বশুর-শাশুড়িকেও। হাওড়ার জগৎবল্লভপুরে ঘটে যাওয়া সেই নৃশংস জোড়া খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত গোষ্ঠ মণ্ডলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল আদালত।

আজ, শুক্রবার হাওড়ার অতিরিক্ত জেলা জজ (দ্বিতীয় আদালত)-এর বিচারক সোমেশ প্রসাদ সিনহা ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) একাধিক ধারায় আসামির সাজা ঘোষণা করেন।

যা ঘটেছিল সেই রাতে
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত গোষ্ঠ মণ্ডল বিয়ের পর থেকেই স্ত্রী মালতিকে ক্রমাগত মারধর করত। মদ্যপ অবস্থায় সে প্রায়ই শ্বশুর হারু হাজরা এবং শাশুড়ি তিলকা হাজরাকেও মারধর করত এবং ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দিত।

ঘটনার পাঁচ দিন আগে, তিনি প্রকাশ্যে শ্বশুর-শাশুড়িকে পুড়িয়ে মারার হুমকিও দেন। এরপর, ২০২২ সালের জুলাই মাসে মধ্যরাতে এই ভয়াবহ কাণ্ড ঘটান জামাই। রাত দেড়টা থেকে দু’টোর মধ্যে হারু হাজরা ও তিলকা হাজরা তাঁদের শোবার ঘরে ঘুমোচ্ছিলেন। অভিযোগ, ঠিক সেই সময় গোষ্ঠ মণ্ডল ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁদের উপর কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

মৃত্যুশয্যার জবানবন্দিই হল প্রধান প্রমাণ
দগ্ধ অবস্থায় দম্পতিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসকদের সামনে হারু হাজরা মৃত্যুশয্যায় স্পষ্ট করে বলেন যে, তাঁদের জামাই গোষ্ঠ মণ্ডলই আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। চিকিৎসকের উপস্থিতিতে সেই জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। শুধু তাই নয়, দগ্ধ অবস্থায় তাঁদের ভিডিয়ো রেকর্ডিংও করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে আদালতে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে পেশ করা হয়। চিকিৎসারত অবস্থাতেই দু’জনের মৃত্যু হয়।

এই মামলায় মোট ২৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সমস্ত প্রমাণ ও সাক্ষ্য বিবেচনা করে আদালত গোষ্ঠ মণ্ডলকে দোষী সাব্যস্ত করে। সরকারি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন মুখ্য সরকারি কৌঁসুলি সোমনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁকে সহযোগিতা করেন এপিপি পার্থসারথি সাঁতরা। সব দিক খতিয়ে দেখে আদালত এই নৃশংস খুনের ঘটনায় চূড়ান্ত রায়ে গোষ্ঠ মণ্ডলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল।