নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইরান যেতে নারাজ বিদেশিরা, IFA শিল্ডেও ধোঁয়াশা, মোহনবাগানের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন

আইএসএল (ISL) ছাড়া অন্যান্য টুর্নামেন্টে খেলা নিয়ে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টসের (MBSG) সদিচ্ছার অভাব রয়েছে—সমসাময়িক ঘটনাবলি যেন সেই ইঙ্গিতই করছে। ডুরান্ড কাপে (Durand Cup) বায়নাক্কার পর এবার ঐতিহ্যবাহী আইএফএ শিল্ড (IFA Shield) এবং এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ-টু (AFC Champions League Two) ম্যাচ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরানে ম্যাচ খেলতে যাওয়া নিয়ে বিদেশি ফুটবলারদের আপত্তিতে রীতিমতো বিপাকে পড়েছে সবুজ-মেরুন শিবির।
ইরানের জটিলতা: নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে বেঁকে বসলেন বিদেশিরা
৩০ সেপ্টেম্বর ইরানে সেপাহান এসসি-র বিরুদ্ধে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ-টু ম্যাচ খেলতে যাওয়ার কথা মোহনবাগানের। কিন্তু পঞ্চমী অর্থাৎ শনিবার শহর ছাড়ার কথা থাকলেও, বিদেশি ফুটবলারদের আপত্তিতে সেই যাত্রা এখন বিশ বাঁও জলে।
ভিসা সমস্যা থেকে নিরাপত্তা: প্রথমে একাধিক বিদেশি ফুটবলারের ভিসা অনুমোদন নিয়ে সমস্যা দেখা দেওয়ায় মোহনবাগান এএফসি-র কাছে ভেন্যু বদলের আবেদন করেছিল, যা অবশ্য প্রত্যাখ্যান হয়। এরপর সেপাহান এসসি ম্যানেজমেন্টের উদ্যোগে ভিসা সমস্যা দূর হলেও, এখন নিরাপত্তাজনিত কারণে বিদেশিরা খেলতে যেতে আপত্তি জানাচ্ছেন।
দেশীয় ফুটবলারদের প্রশ্ন: বিদেশি ফুটবলাররা বেঁকে বসায় এখন ম্যানেজমেন্ট দেশীয় ফুটবলারদেরও মতামত জানতে চেয়েছে বলে খবর। দেশীয় ফুটবলাররাও যদি একই কারণে ইরান যাত্রায় অসম্মত হন, তবে কী হবে, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।
সব মিলিয়ে, পরিস্থিতি গত মরশুমের পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা তৈরি করেছে। গতবারও সেদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে মোহনবাগান ট্র্যাক্টর এফসি-র বিরুদ্ধে খেলতে যেতে অস্বীকার করেছিল।
আইএফএ শিল্ড নিয়েও চরম ধোঁয়াশা
ঐতিহ্যবাহী আইএফএ শিল্ডে অংশগ্রহণ নিয়েও চরম ধোঁয়াশা বজায় রেখেছে মোহনবাগান। গত সোমবার শিল্ড নিয়ে আইএফএ-র বৈঠকে মোহনবাগানের কোনও প্রতিনিধিই হাজির হননি, যা তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে বড় আশঙ্কা তৈরি করে।
সমর্থক সংগঠনের আর্জি: এই পরিস্থিতিতে মোহনবাগান সমর্থকদের সংগঠন ‘মেরিনার্স বেস ক্যাম্প’ আইএফএ-র কাছে অনুরোধ করে, ঐতিহ্য রক্ষার স্বার্থে যেন একটি স্লট খালি রাখা হয়। উল্লেখ্য, ১৯১১ সালে ইস্ট ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্টকে হারিয়ে প্রথম আইএফএ শিল্ড জয়ের দিনটিকেই ‘মোহনবাগান দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।
সময় বাড়াল আইএফএ: সমর্থক সংগঠনের অনুরোধ মেনে আইএফএ শনিবার দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা বাড়িয়েছে। সেই দিনই শিল্ডের চূড়ান্ত সূচি ঘোষণা হবে।
হোসে মোলিনার দলের এই ধরণের সিদ্ধান্তগুলি সমর্থকদের মধ্যে প্রশ্ন তুলছে— আইএফএ শিল্ডের মতো ঐতিহাসিক টুর্নামেন্টের প্রতি ম্যানেজমেন্টের সত্যিই সদিচ্ছা আছে কি না।