ভারতের ‘ফার্মেসি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’ তকমা কেড়ে নেওয়ার ছক? মার্কিন ওষুধে ট্রাম্পের ১০০% শুল্কের হুঁশিয়ারি!

১ অক্টোবর, ২০২৫ থেকে ব্র্যান্ডেড এবং পেটেন্ট করা ওষুধ পণ্যের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক (Tariff) আরোপ করার ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে, যদি উৎপাদনকারী সংস্থাগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করে, তবে এই শুল্ক থেকে ছাড় পাওয়া যাবে। ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, যে সংস্থাগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে “নির্মাণ শুরু” করেছে বা “নির্মাণাধীন” রয়েছে, তাদের পণ্য শুল্কমুক্ত থাকবে।

ট্রাম্পের এই ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে ভারতের ফার্মাসিউটিক্যালস শিল্পের ওপর, যা বিশ্বব্যাপী ‘ফার্মেসি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’ নামে পরিচিত।

ভারতের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের ওপর প্রভাব:

বিশাল রফতানি ধাক্কা: ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জেনেরিক ওষুধের চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ এবং বছরে প্রায় $৮.৭ বিলিয়ন (প্রায় ৭৭,২৩১ কোটি টাকা) মূল্যের ওষুধ রফতানি করে। ড. রেড্ডি’স, অরবিন্দ ফার্মা, জাইডাস লাইফ সায়েন্সেস, সান ফার্মা এবং গ্ল্যান্ড ফার্মার মতো শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলো তাদের মোট আয়ের ৩০-৫০ শতাংশ আমেরিকান বাজার থেকে অর্জন করে। এই কোম্পানিগুলো এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে।

রেকর্ড রফতানি: FY25-এ ভারতের বার্ষিক ওষুধ ও ফার্মাসিউটিক্যালস রফতানি $৩০ বিলিয়ন-এর রেকর্ড ছুঁয়েছে। শুধুমাত্র আগস্ট ২০২৫-এ রফতানি ৬.৯৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে $২.৫১ বিলিয়ন হয়েছে।

বৈশ্বিক ভূমিকা: ভারত বিশ্বের ৫০ শতাংশের বেশি ভ্যাকসিনের চাহিদা এবং যুক্তরাজ্যের সমস্ত ওষুধের ২৫ শতাংশ সরবরাহ করে।

ভারত বর্তমানে উৎপাদনের পরিমাণে বিশ্বে তৃতীয় এবং উৎপাদন মূল্যে ১৪তম স্থানে রয়েছে। পিএলআই (PLI) স্কিম এবং এসপিআই (SPI) স্কিমের মতো সরকারি সহায়তায় এই শিল্প ২০৩০ সালের মধ্যে $১৩০ বিলিয়ন এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে $৪৫০ বিলিয়ন বাজারে পৌঁছনোর লক্ষ্য নিয়েছে। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বব্যাপী সাশ্রয়ী মূল্যের, উচ্চ-মানের ওষুধের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।