মহাকাশে বিশ্বগুরু ভারত! গত এক দশকে কী করে পাল্টে গেল ইসরোর ছবি?

ভারতের মহাকাশ অভিযান এখন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, যাকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘অমৃতকালের এক বিশেষ অধ্যায়’ বলে অভিহিত করেছেন। চন্দ্রযান-৩-এর ঐতিহাসিক সাফল্য থেকে শুরু করে সূর্যের দিকে অভিযান—মহাকাশ গবেষণায় ভারত বর্তমানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এই অগ্রগতি শুধু আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করছে না, দেশের অভ্যন্তরীণ শাসন ব্যবস্থা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েছে।
চাঁদ থেকে মঙ্গল: এক দশকে ইসরোর সাফল্য
২০২৩ সালের ২৩ আগস্ট ভারত যখন বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করে, তখন প্রধানমন্ত্রী মোদী সেই স্থানকে ‘শিবশক্তি পয়েন্ট’ নাম দিয়ে ঘোষণা করেন, “ভারত এখন চাঁদে পৌঁছেছে।” এর আগে, চন্দ্রযান-১ (২০০৮) চাঁদে জলের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছিল এবং চন্দ্রযান-২ (২০১৯) ভবিষ্যতের অভিযানের পথ তৈরি করে দিয়েছিল। চন্দ্রযান-৩-এর বিক্রম ল্যান্ডার ও প্রজ্ঞান রোভারের মাধ্যমে চাঁদের পূর্ণাঙ্গ ছবি পাওয়া গেছে।
মহাকাশে ভারতের সাফল্য কেবল চাঁদেই সীমাবদ্ধ নয়। ২০১৪ সালে ভারত এশিয়ার প্রথম এবং বিশ্বের চতুর্থ দেশ হিসেবে প্রথমবারের চেষ্টাতেই সফলভাবে মঙ্গলের কক্ষে প্রবেশ করে। গত এক দশকে ইসরোর মুকুটে যুক্ত হয়েছে একাধিক পালক:
আদিত্য এল-১ মিশন (২০২৩): সূর্যের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের জন্য বহু প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতায় এই অভিযান সফল হয়েছে।
এক্সপো স্যাট (২০২৪): ব্ল্যাক হোল নিয়ে নিরীক্ষা চালাচ্ছে এই উপগ্রহ।
ভারত এখন পর্যন্ত ৪০০টিরও বেশি বিদেশি স্যাটেলাইট সফলভাবে উৎক্ষেপণ করে মহাকাশ গবেষণায় এক নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক অংশীদার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছে।
পরিবর্তনের মূলমন্ত্র: বেসরকারি ক্ষেত্র ও বাজেট বৃদ্ধি
ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রে এই ব্যাপক পরিবর্তন কাঙ্ক্ষিত ও পরিকল্পিত। প্রধানমন্ত্রী মোদী এই অগ্রগতির জন্য বেসরকারি ক্ষেত্রের জন্য পথ প্রশস্ত করেছেন। বর্তমানে ৩৫০-এর বেশি স্টার্ট আপকে উপগ্রহ তৈরি-সহ অন্যান্য কাজে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, মহাকাশ ক্ষেত্রে বাজেট বরাদ্দ প্রায় তিন গুণ বাড়ানো হয়েছে, যা এই পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি।
উপগ্রহ প্রযুক্তি এখন শাসনব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে প্রভাব ফেলছে:
দুর্যোগ মোকাবিলা: ঘূর্ণিঝড় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পর্কে আগেভাগে সতর্কতা প্রদান।
মৎস্যজীবীদের সহায়তা: সমুদ্রে মাছ ধরার ক্ষেত্রে সঠিক পথনির্দেশ।
কৃষি ও বিমা: ফসলের ফলন ও বিমার দাবি মূল্যায়ন।
রেলওয়ে নিরাপত্তা: রেল চলাচল ও নিরাপত্তা বাড়ানো।
গতিশক্তি কর্মসূচি: প্রধানমন্ত্রীর গতিশক্তি কর্মসূচির মতো বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের মূল অংশকে শক্তিশালী করা।
‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ নীতির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে নেতৃত্ব
প্রধানমন্ত্রী মোদী ধারাবাহিকভাবে মহাকাশকে একটি আন্তর্জাতিক বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছেন, যেখানে ভারত নেতৃত্বের ভূমিকায় রয়েছে। ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ নীতি দ্বারা পরিচালিত হয়ে ভারত বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সহযোগিতামূলক মিশনে অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
নাসার সঙ্গে এনআইএসএআর
সিএনইএস-এর সঙ্গে টিআরআইএসএইচএনএ
জেএএক্সএ-এর সঙ্গে এলইউপিইএক্স
ইএসএ-র প্রোবা ৩
এই সহযোগিতাগুলি প্রমাণ করে যে ভারত কেবল নিজের মহাকাশ যাত্রাই নয়, বিশ্বব্যাপী অংশীদার হিসেবে মহাকাশ গবেষণার অগ্রগতিতেও এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই ‘অমৃতকালের অধ্যায়’ ভারতকে মহাকাশ প্রযুক্তির এক প্রধান কেন্দ্রে পরিণত করতে চলেছে, যা আগামী দিনে দেশের অর্থনীতি ও সুরক্ষাকে আরও মজবুত করবে।