বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৯ জনের মৃত্যু, CESC এবং কলকাতা পুরনিগমের থেকে রিপোর্ট চাইল হাইকোর্ট, নিকাশি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন

অতি বৃষ্টির জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় এবার কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সৌমেন সেন এবং বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই মর্মান্তিক ঘটনায় সিইএসসি (CESC) এবং কলকাতা পুরনিগমের (KMC) কাছে জরুরি রিপোর্ট তলব করেছে।

আদালত নির্দেশ দিয়েছে, এই ঘটনায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানিয়ে আগামী ৯ নভেম্বরের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। এই মৃত্যুর দায় কার, তা নিয়ে প্রথম থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই ঘটনার জন্য সিইএসসি-র ভূমিকাকে দায়ী করেছিলেন।

হাইকোর্টের নির্দেশে যা জানতে চাওয়া হলো
বিচারপতিদের ডিভিশন বেঞ্চ শুধু মৃত্যুর কারণ নিয়েই নয়, শহরের সামগ্রিক পরিকাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। আদালত জানতে চেয়েছে:

১. নিকাশি ব্যবস্থা: শহরের বর্তমান নিকাশি ব্যবস্থার পরিস্থিতি কী?
২. খাল ও বহুতল: কলকাতার খালগুলির পাশে থাকা বহুতলগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য।
৩. ক্ষতিপূরণ: নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া নিয়ে সরকার কী পদক্ষেপের কথা ভাবছে?

উল্লেখ্য, হাইকোর্টের এই নির্দেশ আসার আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা এবং সিইএসসি চাকরি না দিলে সরকারের পক্ষ থেকে চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।

একাধিক জনস্বার্থ মামলা দায়ের
এই ঘটনায় প্রথম থেকেই সিইএসসি-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সোমবার মধ্যরাতের বৃষ্টিতে তিন-চার ঘণ্টার মধ্যে কলকাতায় ২৫১.৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়, যার জেরে শহরের জনজীবন সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়। আর এই জমা জলের কারণেই এতগুলি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী-সহ কয়েকজন আইনজীবী কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করার অনুমতি চান। বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র ডিভিশন বেঞ্চ মামলা দায়েরের অনুমতি দেয়। শুক্রবার সেই মামলাগুলির শুনানি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।