‘আমি ভূতের মতো খাটি, তবুও সবচেয়ে বেশি গালাগালি আমাকেই খেতে হয়’! নিজের উদাহরণ টেনে পুলিশ কর্মীদের বার্তা মমতার

আলিপুর বডিগার্ড লাইন্সের দুর্গাপূজার উদ্বোধনে গিয়ে পুলিশ কর্মীদের পাশে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের পুলিশ মন্ত্রী হিসেবে তিনি শুধু পুলিশকে প্রশংসাই করলেন না, একইসঙ্গে নিন্দুকদের অপপ্রচারে কান না দেওয়ার চরম পরামর্শও দিলেন।

বৃহস্পতিবার আলিপুর বডিগার্ড লাইন্সের পুজো মণ্ডপ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “উৎসবের দিনে পরিবারকে ভুলে ডিউটি করতে হয় পুলিশকে। ওদের পরিবারকে স্যালুট। ৫ শতাংশ ভুলের জন্য ওঁদের ৯৫ শতাংশ ভালো কাজ ভুলে সমালোচনা করা উচিত নয়। সমালোচনা সহ্য করেও কাজ করে যায় পুলিশ।”

নিন্দুকদের নিয়ে কড়া বার্তা
রাজনৈতিক স্তরে বারবার সমালোচিত হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ কর্মীদের মানসিক জোর যোগান। তিনি বলেন, “যাদের কাজই হল নিন্দা করা, তারা নিন্দা করবেই। আপনি আপনার কাজটা করে যান। যারা অপপ্রচার করে, তাদের কথায় কান দেবেন না। কারণ ৫ জনের জন্য তো আর ৯৫ জনকে বঞ্চিত করা ঠিক নয়।”

নিজের উদাহরণ টেনে মমতা বলেন, “আমি ভূতের মতো সারাদিন খাটি, তবুও সবচেয়ে বেশি গালাগালি আমাকেই খেতে হয়। তবু আমি বিশ্বাস করি, ক্ষমায় সবচেয়ে বড় ধর্ম।” তিনি যোগ করেন, “নিন্দুকের কথা শুনে যদি হাল ছেড়ে দিতাম, তাহলে এতদূর আসা হত না।” এই বার্তাতেই তাঁর চেনা রাজনৈতিক দৃঢ়তা ফুটে ওঠে।

পুলিশ পরিবারকে বিশেষ সম্মান
পুজোর মরসুমেও পুলিশ কর্মীদের ২৪ ঘণ্টা ডিউটিতে নিযুক্ত থাকতে হয়। এই প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পুলিশের অনেক সদস্যই দিনরাত খেটে চলেছেন, তাঁদের প্রাপ্য সম্মান যাতে তাঁরা পান, তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, পুলিশের পরিবারগুলির অবদানও কতখানি: “বাড়ির মেয়েরা সাপোর্ট না দিলে পুলিশ এতটা কাজ করতে পারত? আজ যদি কোনও পুলিশ কর্মী মারা যান, সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের একজনকে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। না হলে পরিবার চলবে কী করে?”

অন্যান্য ঘোষণা
সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা: তিনি ঘোষণা করেন, এবার থেকে পুলিশ বিভাগের মধ্যে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন করে সেরা পুলিশকে পুরস্কৃত করা হবে।

মহিলা পুলিশ: মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামীদিনে রাজ্য পুলিশে আরও বেশি করে মহিলাদের আনা হবে।

দিঘার জগন্নাথ ধাম: আলিপুর বডিগার্ড লাইন্সের পুজো মণ্ডপটি এবার দিঘার জগন্নাথ ধামের অনুকরণে তৈরি হয়েছে। সেই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যেভাবে দিঘার মণ্ডপকে তুলে এনেছেন, কোনও কথায় তার উপমা হবে না।”

এদিনের অনুষ্ঠান থেকে ভার্চুয়ালি রাজ্যের বিভিন্ন জেলার শতাধিক পুজোরও উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী।