বাংলাদেশে এখনই ভোট হলে কারা ক্ষমতায় আসবে? জেনেনিন কি বলছে সার্ভে রিপোর্ট?

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস আগামী ফেব্রুয়ারিতে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর মধ্যেই প্রকাশিত এক জনমত সমীক্ষার ফল রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে রাউন্ড টু’ নামের এই সমীক্ষা অনুযায়ী, আগামী নির্বাচনে ৪১ শতাংশের বেশি ভোটার খালেদা জিয়ার দল বিএনপি-কে সমর্থন করতে ইচ্ছুক।
কোন দল কত শতাংশ সমর্থন পাচ্ছে?
‘ইনোভিশন কনসাল্টিং’ পরিচালিত এই সমীক্ষার ফল বুধবার ঢাকার জাতীয় আর্কাইভস মিলনায়তনে প্রকাশ করা হয়। সমীক্ষায় দেখা যায়, বাংলাদেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগের মধ্যে ছয়টিতেই বিএনপির প্রতি ভোটারদের সমর্থন রয়েছে। অন্যদিকে, শেখ হাসিনার আওয়ামী লিগ এবং জামায়াতে ইসলামী একটি করে বিভাগে এগিয়ে রয়েছে।
সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ১০ হাজার ৪১৩ জন ভোটারের মধ্যে ৪১.৩০ শতাংশ বিএনপি-কে সমর্থন করেছেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, যাদের প্রতি ৩০.৩০ শতাংশ ভোটারের সমর্থন দেখা গেছে। গত বছর গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া আওয়ামী লিগ রয়েছে তৃতীয় স্থানে, যাদের ভোট ১৮.৮০ শতাংশ। নতুন রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি (এনসিপি) ৪.১০ শতাংশ সমর্থন নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে।
আওয়ামী লিগের ভোট বাড়লেও বিএনপি এখনও শীর্ষে
সমীক্ষক সংস্থা জানিয়েছে, গত মার্চের সমীক্ষার তুলনায় বিএনপির সমর্থন সামান্য কমেছে (৪১.৭০% থেকে ৪১.৩০%)। জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনও কিছুটা কমেছে (৩১.৬০% থেকে ৩০.৩০%)। তবে, আশ্চর্যজনকভাবে, আওয়ামী লিগের সমর্থন ৪.৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তা সত্ত্বেও, দলটি এখনো বিএনপি ও জামায়াতের চেয়ে অনেক পিছিয়ে আছে।
যদি আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লিগকে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়া হয়, তাহলে তাদের ভোটারদের একটি বড় অংশ অন্য দলকে ভোট দিতে প্রস্তুত। সমীক্ষা অনুযায়ী, আওয়ামী লিগের ২০ শতাংশ ভোটার বিএনপিকে, ১৪.৮ শতাংশ জামায়াতকে এবং ২.১ শতাংশ এনসিপিকে ভোট দেবে।
প্রার্থী না দল, কাকে প্রাধান্য দেবে ভোটাররা?
সমীক্ষায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে: ৬৫.৫ শতাংশ ভোটার দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে প্রার্থীর যোগ্যতা বিবেচনা করে ভোট দিতে আগ্রহী। মাত্র ১৪.৭ শতাংশ ভোটার প্রতীক দেখে ভোট দেবেন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে, বেশিরভাগ উত্তরদাতা (৭২.২%) ভারত এবং (৬৯%) পাকিস্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে পাকিস্তানের প্রতি আগ্রহ কম এবং ভারতের প্রতি সমর্থন বেশি দেখা গেছে।