নির্বাচনের আগে বিহার বিজেপিতে তুমুল বিদ্রোহ! উপ-মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য সভাপতির বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ, সরব প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

বিধানসভা নির্বাচনের ঘণ্টা বেজে গিয়েছে আগেই, আর পুজো মিটলেই নির্ঘণ্ট প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। এমন crucial সময়ে ঘরোয়া বিবাদে কার্যত জেরবার বিহার বিজেপি। দলের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী এবং রাজ্য সভাপতি দিলীপ জয়সওয়ালকে নিয়ে চরম অশান্তি শুরু হয়েছে পদ্মশিবিরে। এই দু’জনকেই সরিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছেন দলের বর্ষীয়ান নেতারা।

এই বিদ্রোহের মূলে আছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং একদা স্বরাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব পালন করা আরকে সিং। তিনি প্রকাশ্যে দলের দুই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন এবং নথিপত্র সংগ্রহ করে ময়দানে নেমেছেন বলে জানা যাচ্ছে।

বিহার বিজেপির এই অশান্তির সূত্রপাত হয়েছে ভোট কুশলী তথা জন সুরাজ পার্টির প্রধান প্রশান্ত কিশোরের অভিযোগ ঘিরে। প্রশান্ত সম্প্রতি উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, সম্রাট চৌধুরী মাত্র ক্লাস সেভেন পাশ। তাঁর মতো মানুষ উপ-মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারেন না, যা রাজ্যের জন্য ক্ষতিকর। প্রশান্ত সাহস থাকলে সার্টিফিকেট দেখিয়ে যোগ্যতা প্রমাণের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেও সম্রাট চৌধুরী এ বিষয়ে নীরবতার পথ ধরেছেন।

অন্যদিকে, প্রশান্ত কিশোর প্রদেশ বিজেপি সভাপতি দিলীপ জয়সওয়ালের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলার পাশাপাশি একটি সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠান পরিচালিত মেডিক্যাল কলেজ দখলেরও গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। দিলীপ জয়সওয়ালও নীরব রয়েছেন।

জানা যাচ্ছে, এই অভিযোগগুলিকেই হাতিয়ার করে দলে কোণঠাসা হয়ে থাকা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরকে সিং সক্রিয় হয়েছেন। তিনি মনে করেন, দলের এই দুই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় দল যদি ব্যাখ্যা না দেয়, তবে আসন্ন নির্বাচনে ভোটের বাক্সে এর মারাত্মক বিপরীত প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে।

এমনিতেই বিহারে এনডিএ জোটের অভ্যন্তরে অস্থিরতা তুঙ্গে। জোট শরিক চিরাগ পাসোয়ানের লোক জনশক্তি পার্টি (রামবিলাস) ৪০টি আসন চেয়েছেন এবং দাবি মতো আসন না পেলে শরিকদের বিরুদ্ধে প্রার্থী দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এতে চিন্তায় পড়েছে নীতীশ কুমারের দল জেডিইউ। আবার নীতীশ কুমার দাবি করেছেন, বিজেপি বৃহত্তম শরিক হলেও বিধানসভা ভোটে সবচেয়ে বেশি আসন জেডিইউ-কে দিতে হবে। এই আসন বোঝাপড়ার টানাপোড়েনের মধ্যেই বিজেপির ঘরোয়া কোন্দল প্রকাশ্যে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠল।