লাদাখে রক্তক্ষয়ী সংঘাত! কেন প্রাণ গেল ৪ জনের? সোনম ওয়াংচুককে দুষছে কেন্দ্র, যুব অসন্তোষের আসল কারণ কী?

দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা লাদাখের অহিংস আন্দোলন হঠাৎই হিংসাত্মক রূপ নেওয়ায় উপত্যকা জুড়ে চরম উত্তেজনা। লাদাখকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতাভুক্ত করার দাবিতে এই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। সূত্রের খবর, বুধবার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা কর্মীদের সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৪৫ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

এই হিংসাত্মক রূপ নেওয়ায় লাদাখের আন্দোলনের প্রধান মুখ পরিবেশ কর্মী সোনম ওয়াংচুককে সরাসরি দায়ী করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। যদিও আন্দোলন সহিংস আকার নেওয়ার পর ১৫ দিনের অনশন থেকে সরে এসেছেন সোনম। তিনি এই সহিংসতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে তিনি সহিংস আন্দোলনকে সমর্থন করেন না।

তবে পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সোনম ওয়াংচুক হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, এই বিক্ষোভ আসলে ‘দীর্ঘ দিন ধরে জমতে থাকা আগুনেরই বহিঃপ্রকাশ’। তাঁর মতে, লাদাখের রাজনৈতিক দলগুলি তরুণ প্রজন্মকে সঠিক দিশা দেখাতে পারেনি। তিনি আরও জানান, চাকরি না পাওয়া এবং গণতন্ত্রের অভাব থেকেই যুবকদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। তিনি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, লাদাখে ‘কোন গণতন্ত্র নেই’ এবং ষষ্ঠ তফসিল নিয়ে জনগণের কাছে করা প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হয়নি।

এদিকে, ৬ অক্টোবর লাদাখের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কেন্দ্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের কথা রয়েছে। তবে তার আগেই রাস্তায় আগুন লাগানো এবং বিজেপির পার্টি অফিস জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি চালানো এবং টিয়ারগ্যাস শেলিং করে। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ৫ বা তার বেশি লোকের জমায়েত নিষিদ্ধ করতে BNSS-এর ধারা ১৬৩-এর অধীনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এছাড়া, উস্কানিমূলক বক্তৃতার অভিযোগে কংগ্রেস নেতা এবং কাউন্সিলর ফুনসোগ স্টানজিন সেপাগকে মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আটক করা হয়েছে।