নবজাতকের মুখে পাথর গুঁজে, ফেভিকুইক দিয়ে ঠোঁট আটকে জঙ্গলে ফেলে গেল নৃশংসরা! রাজস্থানে হাড়হিম করা ঘটনা!

মানবতাকে লজ্জিত করে ফের সামনে এল এক হাড়হিম করা ঘটনা। রাজস্থানের ভিলওয়াড়ার বিজোলিয়ার জঙ্গলের ঝোপঝাড় থেকে এক ১০-১৫ দিনের সদ্যোজাতকে উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো, শিশুটি যাতে আওয়াজ করতে না পারে, তার জন্য তার মুখে পাথর ভরা ছিল এবং ঠোঁট দু’টি ফেভিকুইক দিয়ে আটকানো ছিল। স্থানীয়দের তৎপরতায় শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
যেভাবে হলো উদ্ধার
পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জঙ্গলের কাছেই মা সীতার মন্দিরের পাশে এক রাখাল গোঙানির ক্ষীণ শব্দ শুনতে পান। শব্দের উৎস খুঁজতে গিয়ে তাঁর চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়— পাথরের নীচে পড়ে রয়েছে এক সদ্যোজাত। রাখাল ভম্বর সিং দ্রুত গ্রামের বাসিন্দাদের খবর দেন। গ্রামের লোকজন দ্রুত পুলিশে খবর দেন এবং শিশুটিকে উদ্ধার করে ভিলওয়াড়ার মহাত্মা গান্ধি হাসপাতালে নিয়ে যান।
চিকিৎসক যা জানালেন
শিশুটির উপর যে নৃশংস অত্যাচার হয়েছে, তার ক্ষত তার শরীরে স্পষ্ট। শিশুটির প্রথম চিকিৎসা করা ডাঃ মুকেশ ঢাকর জানান, শিশুটি অত্যন্ত দুর্বল ছিল। প্রবল উত্তাপের কারণে তার শরীরের বাঁ-দিক পুড়ে গিয়েছে এবং তার ঠোঁটে ফেভিকুইক লাগানোর ক্ষত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর শিশুটিকে শিশুরোগ বিভাগে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
মহাত্মা গান্ধি হাসপাতালের শীর্ষ আধিকারিক অরুণ গৌর জানিয়েছেন, শিশুটি বর্তমানে স্থিতিশীল এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
পুলিশি তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ
এই ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। জেলার সাইবার ও নজরদারি টিম অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
অন্যদিকে, ভিলওয়াড়া শিশু কল্যাণ কমিটিকে খবর দেওয়া হলে কমিটির সদস্য বিনোদ রাও জানান, শিশুর শারীরিক পরিস্থিতির আরও উন্নতি হলে তাকে সরকারি হোমে নিয়ে যাওয়া হবে। এই অমানবিক ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা এলাকাবাসী।