‘ভোট চুরি’র অভিযোগের পর সুর নরম! নির্বাচন কমিশনের নতুন নিয়ম কেন রাহুল গান্ধীর বক্তব্যকেই সমর্থন করছে?

‘ভোট চুরি’-র অভিযোগের পর অবশেষে নড়েচড়ে বসল নির্বাচন কমিশন। অনলাইন ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও সুরক্ষিত করতে নতুন নিয়ম চালু করেছে তারা। এখন থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য আধার-সংযুক্ত মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে যাচাইকরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের পর প্রশ্ন উঠেছে, রাহুল গান্ধী যখন একই অভিযোগ করেছিলেন, তখন কমিশন কেন বলেছিল তাদের সিস্টেম সম্পূর্ণ সুরক্ষিত? তাহলে এখন এই পরিবর্তন কেন?
এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক মন্তব্যে। তিনি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের দিকে সরাসরি আঙুল তুলেছেন, “জ্ঞানেশ জি, আমরা চুরি ধরেছি, তাই আপনাদের তালা লাগানোর কথা মনে পড়েছে। এখন চোরদেরকেও ধরব। তাহলে বলুন, সিআইডিকে কখন প্রমাণ দিচ্ছেন?” রাহুল গান্ধীর এই প্রতিক্রিয়া সেই সময় এসেছে যখন নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার পদ্ধতিতে নতুন স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা আনতে এই নিয়মটি এনেছে।
আল্যান্ডে ‘ভোট চুরি’র ঘটনা
১৮ সেপ্টেম্বর, রাহুল গান্ধী কর্ণাটকের আলাণ্ড বিধানসভা কেন্দ্রে ৬,০১৮ জন ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে সরিয়ে ফেলার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছিলেন। তিনি দাবি করেন, এই কারচুপি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে, যেখানে কর্ণাটকের বাইরের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে অনলাইন ‘ফর্ম ৭’-এর মাধ্যমে নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তিনি এটিকে গণতন্ত্রের হত্যা বলে অভিহিত করে বলেন, বিশেষভাবে দলিত, ওবিসি এবং সংখ্যালঘু ভোটারদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে, তিনি বলেন, সূর্যকান্ত নামে একজন ভোটারের পরিচয় ব্যবহার করে তার অজান্তেই আরও ১২ জনের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল গোদাবাই নামে অন্য একজন ভোটারের ক্ষেত্রেও। রাহুল অভিযোগ করেন, এটি একটি স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে করা হয়েছে এবং কর্ণাটক সিআইডি বারবার প্রমাণ চাইলেও কমিশন তা সরবরাহ করেনি।
নির্বাচন কমিশনের প্রতিক্রিয়া ও নতুন নিয়ম
রাহুল গান্ধীর অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘ভুল’ বলে খারিজ করেছিল নির্বাচন কমিশন। তারা দাবি করে, কোনো সাধারণ নাগরিক অনলাইন ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিতে পারে না এবং নাম বাদ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মতামত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। কমিশন আরও জানায়, ২০২৩ সালে আলাণ্ডের এই ব্যর্থ চেষ্টার জন্য এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল এবং তদন্তের দায়িত্ব কালবুর্গি পুলিশকে দেওয়া হয়েছে।
তবে রাহুল গান্ধীর এই অভিযোগের পরই কমিশন নতুন ‘ই-সাইন’ ফিচারটি চালু করেছে। এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া (ফর্ম ৭), নতুন নাম নথিভুক্ত করা (ফর্ম ৬) অথবা কোনো সংশোধনের (ফর্ম ৮) জন্য আধার-সংযুক্ত মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, এই পদক্ষেপটি ভোটার পরিচয়ের অপব্যবহার রোধ এবং আলাণ্ডের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি আটকাতে নেওয়া হয়েছে।