বিজেপি জিতলে ট্যাক্স বাড়বে, হারলে কমবে, নতুন জিএসটি নিয়ে কেন্দ্রকে কেন তুলোধনা অভিষেকের

জিএসটি সংস্কারের পদক্ষেপ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তীব্র আক্রমণ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, প্রধানমন্ত্রী এখন ‘জিএসটি বচত উৎসব’-এর কথা বলছেন, তাহলে কি এতদিন ‘লুঠ উৎসব’ চলছিল?
‘ঠেলায় না পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে না’
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিজেপি চাপে পড়েছে। ৩০৩ থেকে ২৪০-এ নেমে এসেছে। সে কারণে জিএসটি কমছে। বিজেপি জিতলে ট্যাক্স বাড়বে, হারলে কমবে।” তিনি আরও বলেন, “মানুষ অনেক বেশি বুদ্ধিমান। ঠেলায় না পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে না। ৬০ আসন কমেছে বলে ২৮ শতাংশের জিএসটি ১৮ হয়েছে। ২০০ আসন পেলে ১৮ শতাংশের জিএসটি ৯-এ নামতো, আর বিজেপি শূন্য হলে জিএসটিও শূন্য হয়ে যাবে।”
কেন্দ্রকে একাধিক বিষয়ে আক্রমণ
অভিষেক অভিযোগ করেন যে, গত ১০ বছরে মানুষের জন্য কোনো ‘রিলিফ’-এর কথা বলা হয়নি এবং বিজেপি সরকার অর্থনীতিকে রসাতলে পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, জিএসটি-তে রাজ্যের সুপারিশ বিবেচনা করা হয় না এবং রাজ্যের প্রাপ্য টাকাও আটকে রাখা হয়।
এনআরসি, নোটবন্দি, কৃষি আইন-সহ বিভিন্ন ইস্যুতেও তিনি বিজেপিকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, নোটবন্দি ব্যর্থ হয়েছে এবং কৃষি আইনের কারণে সাড়ে সাতশো গরিব কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ প্রসঙ্গে তিনি বিজেপির দ্বিচারিতার সমালোচনা করেন। এছাড়াও, একশো দিনের কাজের টাকা আটকে রাখা নিয়েও তিনি কেন্দ্রকে তোপ দাগেন।
ইডির ভূমিকা এবং শুভেন্দুর মন্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া
মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহাকে ইডি হেফাজতে নেওয়ার বিষয়ে অভিষেক বলেন যে, তিনি বিচারব্যবস্থার উপর আস্থা রাখেন এবং রায় চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে যাওয়ার রাস্তা খোলা আছে। তবে তিনি ইডি ও সিবিআইয়ের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
মহালয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রীর পুজো উদ্বোধনকে শুভেন্দু অধিকারীর কটাক্ষের জবাবে অভিষেক পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, “তাহলে তো শুভেন্দু অধিকারীর কথা অনুযায়ী দেশের সবচেয়ে বড় হিন্দু-বিরোধী নরেন্দ্র মোদী। কারণ, তিনি রামনবমীর তিন মাস আগে রাম মন্দির উদ্বোধন করেছিলেন।”