আমেরিকার ভিসা নীতিতে বড় ধাক্কা, ভারত-মার্কিন সম্পর্কে টানাপোড়েন, এবার কি সঙ্কটে ভারতীয় পেশাদাররা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের H-1B ভিসা নীতির সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয়। এটি প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও অন্যান্য বিশেষায়িত ক্ষেত্রে কর্মরত ভারতীয় পেশাদারদের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। বিদেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের পূর্ণ প্রভাব বোঝার জন্য তারা একটি গভীর বিশ্লেষণ চালাচ্ছে এবং ভারতীয় শিল্পমহলের কাছ থেকেও প্রাথমিক প্রতিবেদন সংগ্রহ করা হয়েছে।
কেন উদ্বিগ্ন ভারত?
বিদেশ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারত এবং আমেরিকা উভয়েরই স্বার্থ উদ্ভাবন এবং সৃজনশীলতার মধ্যে নিহিত। মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে, ভবিষ্যতে এই নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক পরামর্শ হবে। তারা আরও জোর দিয়ে বলেছে যে, ভারতীয় পেশাদারদের দক্ষতা দুই দেশের প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই নীতি নির্ধারকদের দুই দেশের পারস্পরিক সুবিধার কথা মাথায় রাখা উচিত।
পরিবারগুলোর জন্য সমস্যা
ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয় বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে যে, এইচ১-বি ভিসা নীতির পরিবর্তন H-4 ভিসাধারীদের (H-1B ভিসাধারীদের পরিবারের সদস্য) কাজের অনুমতি এবং বসবাসের অধিকারের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এটি বহু ভারতীয় পরিবারের জন্য কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করবে। ভারত সরকার আশা করছে, মার্কিন কর্তৃপক্ষ এই সমস্যার যথাযথ সমাধান করবে এবং এই বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে।
ভারতীয় আইটি শিল্পের উপর সম্ভাব্য প্রভাব
ভারতীয় শিল্প সংগঠন, বিশেষ করে ন্যাসকম (NASSCOM), এই নীতির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ন্যাসকম জানিয়েছে, এইচ১-বি ভিসা ভারতীয় আইটি শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি মার্কিন বাজারে ভারতীয় কোম্পানিগুলোর প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা বজায় রাখতে সাহায্য করে। গত বছর প্রায় ৭০ শতাংশ এইচ১-বি ভিসা ভারতীয় পেশাদাররাই পেয়েছিলেন, যা এই ভিসার উপর ভারতীয় প্রযুক্তি শিল্পের নির্ভরতা প্রমাণ করে। এই নীতি পরিবর্তন হলে ভারতীয় কোম্পানিগুলোর খরচ বেড়ে যাবে এবং তাদের কার্যক্রমেও বাধা সৃষ্টি হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই খবর নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতীয় পেশাদারদের অনুপস্থিতিতে মার্কিন অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।