‘নগদ টাকা চাষ থেকে আসেনি’, চন্দ্রনাথ সিনহার জামিনের বিরোধিতায় কী প্রমাণ পেশ করল ইডি?

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত রাজ্যের কারামন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা আজ, শনিবার সকালে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে জামিনের শুনানিতে উপস্থিত হন। ইডি তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। ইডি-র দাবি, মন্ত্রী অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি তাদের হাতে রয়েছে।
আদালতে ইডি-র আইনজীবী জানান, তাঁদের তদন্তে মন্ত্রীর বাড়ি থেকে যে ৪১ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল, সেই টাকার উৎস হিসেবে তিনি চাষবাসের কথা বললেও, এর সপক্ষে কোনো প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে পারেননি। ইডি আরও জানায়, মন্ত্রীর জমা দেওয়া আয়কর ফাইলে টাকার উৎস সম্পর্কে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। এর পাশাপাশি, তাঁর জমি সংক্রান্ত বহু নথিতেও আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীনতা দেখা গেছে। বীরভূমের মুরারই জমি আধিকারিকের দফতর থেকেও বেশ কিছু জমির নথি খতিয়ে দেখা হয়েছে। ইডি-র অভিযোগ, চার্জশিট জমা পড়ার আগে নথি চাওয়া হলেও তিনি তা পাঠাননি, যা তার উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি করে।
ইডি-র চার্জশিটে সবচেয়ে বড় অভিযোগটি হলো, মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা প্রায় ১৫৯ জন অযোগ্য প্রার্থীর কাছ থেকে গড়ে ৮ লক্ষ টাকা করে নিয়েছিলেন, যার মোট পরিমাণ প্রায় ১২.৭২ কোটি টাকা। এই বিপুল অঙ্কের টাকা কোথায় গেল, তার কোনো ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি। ইডি আরও দাবি করেছে, মন্ত্রী তাঁর পরিবার ও দূর সম্পর্কের আত্মীয়দের নামেও সম্পত্তি দেখিয়েছেন, যা আসলে দুর্নীতিতে অর্জিত অর্থ লুকানোর চেষ্টা। নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত কুন্তল ঘোষের জবানবন্দি থেকে প্রথম চন্দ্রনাথ সিনহার নাম উঠে আসে। এরপর গত ৬ সেপ্টেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করে তিনি অন্তর্বর্তী জামিনে ছাড়া পান। এখন দেখার, আদালত তাকে জামিন দেয় নাকি ইডি-র হেফাজতে পাঠায়।