বিমানে যাত্রীদের নিয়েই ‘সুইসাইড’ করেন পাইলট? সরকারি তদন্তের দাবি বাবার

আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ এয়ারক্র্যাফ্ট দুর্ঘটনার নিহত পাইলট সুমিত সবরওয়ালের বাবা পুষ্করাজ সবরওয়াল, এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনকোয়ারি ব্যুরোর প্রাথমিক তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক এবং ব্যুরোকে লেখা এক বিস্ফোরক চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, তদন্ত রিপোর্টে এমন কিছু তথ্য ফাঁস করা হয়েছে, যা তাঁর ছেলের সম্মানহানি করছে। তাঁর দাবি, এই দুর্ঘটনা নিয়ে যে ‘আত্মহত্যার তত্ত্ব’ ছড়ানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

চিঠিতে নবতিপর পুষ্করাজ সবরওয়াল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘১২ জুনের দুর্ঘটনার পর থেকে এমন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে যে সুমিত মানসিক চাপের মধ্যে ছিল এবং আত্মহত্যা করার উদ্দেশ্যে বিমান নিয়ে ভেঙে পড়েছে। এই ধরনের তথ্য আমাকে এবং আমার পরিবারের মানসিক শান্তি নষ্ট করেছে, এবং সবচেয়ে বড় কথা, আমার ছেলের সম্মানহানি হয়েছে। সংবিধানের ২১ ধারা অনুযায়ী, প্রত্যেক নাগরিকের সম্মান নিয়ে বাঁচার অধিকার রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, তাঁর ছেলের ১৫ বছর আগেই বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল এবং মায়ের মৃত্যুর পরও সে স্বাভাবিকভাবেই বিমান চালিয়েছে। ২৫ বছরের কর্মজীবনে তাঁর ছেলে ১৫ হাজার ৬৩৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিমান চালিয়েছে এবং কোনও দুর্ঘটনা ঘটায়নি।

এই পরিস্থিতিতে সুমিতের বাবা ভারতের সংবিধানের ১২ নম্বর ধারা অনুযায়ী একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন, যেখানে কেন্দ্র সরকার এই দুর্ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করবে। তবে এই চিঠি নিয়ে এখনও পর্যন্ত অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মন্ত্রকের পক্ষ থেকে কেবল জানানো হয়েছে যে তদন্ত চলছে এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন আসা পর্যন্ত সবাইকে বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।