গেম চেঞ্জার ‘আয়রন বিম’ আসছে, মিসাইলের বদলে লেজার রশ্মিতে শত্রুকে ধ্বংস করবে ইজরায়েল

প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চেয়ে অনেক কম খরচে শত্রুর হামলা ঠেকানোর জন্য ইজরায়েল একটি যুগান্তকারী হাই-এনার্জি লেজার অস্ত্র তৈরি করেছে। এর নাম ‘আয়রন বিম’ (Iron Beam)। ২০২৫ সালের শেষের দিকে এটি মোতায়েন করা হবে। সম্প্রতি দক্ষিণ ইজরায়েলে চালানো চূড়ান্ত পরীক্ষায় এটি রকেট, মর্টার, ড্রোন এবং কম উচ্চতায় উড়তে থাকা বিমানকে সফলভাবে ধ্বংস করেছে।

প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সাধারণত ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য মিসাইল ব্যবহার করা হয়, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। উদাহরণস্বরূপ, ইজরায়েলের ‘আয়রন ডোম’ সিস্টেমের প্রতিটি মিসাইলের দাম কমপক্ষে ৫০,০০০ ডলার। যখন হামাস বা অন্য কোনো গোষ্ঠী হাজার হাজার রকেট ও ড্রোন দিয়ে হামলা করে, তখন এই খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও দ্রুত শেষ হয়ে যায়।

আয়রন বিম কীভাবে সমীকরণ বদলাবে?
এই সমস্যা সমাধানের জন্যই ‘আয়রন বিম’ তৈরি করেছে ইজরায়েলি কোম্পানি রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস। এটি মিসাইলের পরিবর্তে লেজার রশ্মি ব্যবহার করে শত্রুর টার্গেটকে ধ্বংস করে। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এতে মিসাইল শেষ হয়ে যাওয়ার কোনো ঝুঁকি থাকে না। সিস্টেমে বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলে এটি অনবরত কাজ করতে পারে।

ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ বলেন, “আয়রন বিম সামান্য খরচে দ্রুত এবং নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারে। এটি আমাদের বর্তমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে যুদ্ধের সমীকরণ বদলে দেবে।”

যেভাবে কাজ করে এই লেজার অস্ত্র
‘আয়রন বিম’-এর মূল শক্তি এর ফাইবার লেজার প্রযুক্তি। যখন কোনো বিপদ শনাক্ত হয়, তখন এই সিস্টেমটি তাকে ট্র্যাক করে এবং তার ওপর লেজারের রশ্মি ফেলে। লেজারের তীব্র শক্তি সেই টার্গেটকে মাত্র চার সেকেন্ডের মধ্যেই ধ্বংস করে দেয়। এর রেঞ্জ প্রায় ১০ কিলোমিটার।

আয়রন বিম ইজরায়েলের বিদ্যমান এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমগুলোর পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। এটি মূলত স্বল্প-দূরত্বের বিপদ, যেমন ছোট রকেট, ড্রোন ও মর্টারকে ধ্বংস করার ওপর মনোযোগ দেবে। এর মাধ্যমে প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো আরও বড় এবং দূরবর্তী হুমকির বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত রাখা যাবে।