আতঙ্কে ঘুম উড়েছে স্থানীয়দের, ফের চিতাবাঘের শিকার ১২ বছরের কিশোর, ক্ষোভে ফুঁসছে নাগরাকাটা!

ডুয়ার্সের নাগরাকাটা ব্লকে চিতাবাঘের হামলায় আবারও এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে চিতাবাঘের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছে ১২ বছরের এক কিশোর, যার নাম অস্মিত রায়। এই ঘটনা নাগরাকাটার খেরকাটা বস্তিতে তীব্র আতঙ্ক এবং ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যাবেলায় অস্মিত বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিল। হঠাৎই একটি চিতাবাঘ তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাকে টেনে জঙ্গলের দিকে নিয়ে যায়। কিশোরের আর্তনাদ শুনে স্থানীয়রা ছুটে এলে চিতাবাঘটি পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় অস্মিতকে শুলকাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃতের বাবা শত্রুঘ্ন রায়ের কান্নায় গোটা গ্রাম শোকে স্তব্ধ হয়ে যায়। এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। তারা বন দফতর ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে যথাযথ নজরদারির অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ঘটনার খবর পেয়ে ডায়না ও খুনিয়া রেঞ্জের বনকর্মীরা এবং নাগরাকাটা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সঞ্জয় কুজুর ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।

গত ছয় মাসে ডুয়ার্সে চিতাবাঘের হামলায় একাধিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গত ১৮ জুলাই বানারহাটের কলাবাড়ি চা-বাগানে একটি তিন বছরের শিশুকে চিতাবাঘ টেনে নিয়ে মেরে ফেলেছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এক মাসের মধ্যে একই চা-বাগানে আরেক শ্রমিক চিতাবাঘের আক্রমণে মারা যান। আগস্টের শেষের দিকে নাগরাকাটার উত্তর অংরাভাষা গ্রামেও এক কিশোরের মৃত্যু হয়।

মাত্র দু’মাসের মধ্যে তিনটি প্রাণহানির ঘটনায় এলাকার মানুষ গভীর আতঙ্কে রয়েছেন। বন দফতর খাঁচা পাতা এবং ক্যামেরা বসানোর মতো কিছু উদ্যোগ নিলেও, তার কার্যকারিতা নিয়ে স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন। ডুয়ার্সবাসীর একটাই জিজ্ঞাসা, আর কত প্রাণ গেলে প্রশাসন সক্রিয় হবে?