থিয়েটার কমান্ড’ ভারতের প্রতিরক্ষায় নতুন মাইলফলক? কলকাতার সম্মেলনে মোদী, রাজনাথের বক্তব্যে বড় ইঙ্গিত!

কলকাতায় চলছে এ বছরের ‘কম্বাইন্ড কমান্ডার্স কনফারেন্স’, যেখানে ভারতের সামরিক ইতিহাসে একটি বড় পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান এবং তিন বাহিনীর প্রধানরা এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ করে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সাফল্যের পর এই সম্মেলনকে ঘিরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে আগ্রহ ছিল তুঙ্গে।

সম্প্রতি সংঘটিত ‘অপারেশন সিঁদুর’ ভারতীয় সামরিক বাহিনীর জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা এনে দিয়েছে। এই অভিযানে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নজিরবিহীন সাফল্য এনে দেয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভাগাভাগি এবং তিন বাহিনীর যৌথ তৎপরতা আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসিত হয়। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অভিযানই ভারতকে থিয়েটার কমান্ড বাস্তবায়নের জন্য বড় তাগিদ দিয়েছে।

কী এই ‘থিয়েটার কমান্ড’?
‘থিয়েটার কমান্ড’ হলো সামরিক বাহিনীর একটি সমন্বিত কাঠামো। এই পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট ভৌগোলিক বা কার্যকরী এলাকার জন্য স্থলসেনা, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে একই ছাদের নিচে নিয়ে আসা হয়। সেই এলাকার দায়িত্বে একজন মাত্র ‘থিয়েটার কমান্ডার’ থাকবেন, যিনি সরাসরি তিন বাহিনীর ইউনিটকে নির্দেশ দেবেন। এর ফলে আলাদা বাহিনী প্রধানদের নির্দেশের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।

২০২০ সালে চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) পদ সৃষ্টির পর থেকেই ভারতে ‘থিয়েটার কমান্ড’-এর রূপরেখা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ২০২৩ সালে ‘Inter-Services Organizations Act’ পাসের মাধ্যমে আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী হয়েছে। এই ব্যবস্থা চালু হলে সীমান্ত ও সমুদ্রভিত্তিক হুমকি মোকাবিলা আরও দ্রুত এবং কার্যকরভাবে করা যাবে। পাশাপাশি, সামরিক রিসোর্সের অপচয় কমবে এবং একইসঙ্গে স্থল, জল, আকাশ, সাইবার ও মহাকাশ—সবক্ষেত্রে সমন্বিতভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো সম্ভব হবে।

সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ভারত এই নতুন প্রতিরক্ষা কৌশলের পথে দৃঢ়ভাবে এগোচ্ছে। এটি ভারতের সামরিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।