বিয়ের জন্য চাপ, প্রেমিকাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, পুলিশি হেফাজতে অভিযুক্ত

বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় নিজের প্রেমিকাকে হত্যা করেছেন এক স্কুলশিক্ষক। রাজস্থানের ঝুনঝুনু থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দূরে বারমেরে গাড়ি চালিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন ৩৭ বছর বয়সী মুকেশ কুমারী। সেখানেই তাঁর প্রাণহীন দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিক ভাবে দুর্ঘটনা মনে হলেও, পুলিশি তদন্তে জানা যায় এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

এক দশক আগে স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল মুকেশ কুমারীর। তিনি ঝুনঝুনুতে অঙ্গনওয়াড়ি সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করতেন। ২০২৪ সালের অক্টোবরে, ফেসবুকে বারমেরের স্কুলশিক্ষক মানারামের সঙ্গে তার আলাপ হয়। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং মুকেশ প্রায়শই মানারামের সঙ্গে দেখা করতে ৬০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে বারমেরে যেতেন। মুকেশ মানারামের সঙ্গে সংসার পাততে চেয়েছিলেন। তবে, মানারামের বিবাহবিচ্ছেদের মামলা তখনো আদালতে চলছিল। এই নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়শই বাদানুবাদ হত।

১০ সেপ্টেম্বর, মুকেশ আবারও গাড়ি নিয়ে মানারামের গ্রামে পৌঁছে যান এবং তার পরিবারের কাছে তাদের সম্পর্কের কথা প্রকাশ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মানারাম পুলিশকে ডেকেছিল। পুলিশ তাদের নিজেদের মধ্যে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে সন্ধ্যায়, মানারাম মুকেশের সঙ্গে বিয়ের বিষয়ে কথা বলার জন্য একটি নির্জন জায়গায় দেখা করে। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মানারাম একটি লোহার রড দিয়ে মুকেশের মাথায় আঘাত করে, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পুলিশি তদন্ত ও গ্রেফতার

মানারাম মুকেশের মৃতদেহ তার গাড়ির ড্রাইভিং সিটে রেখে গাড়িটিকে খাদে ফেলে দেয়। পরের দিন সকালে সে নিজেই পুলিশকে খবর দিয়েছিল, যাতে ঘটনাটিকে একটি দুর্ঘটনা বলে চালানো যায়। তবে পুলিশের সন্দেহ হয়। মুকেশের মৃত্যুর সময় মানারাম এবং মুকেশের ফোনের অবস্থান এক ছিল দেখে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। চাপের মুখে মানারাম তার অপরাধ স্বীকার করে। পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছে এবং মুকেশের পরিবারের হাতে তার দেহ তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করছে।