“আর হয়তো চাকরিটা বাঁচাতে পারবো না,” পরীক্ষা শেষে বললেন ‘যোগ্য’ চাকরি হারা প্রার্থী সঙ্গীতা

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় আজ সুষ্ঠু ও কড়া নিরাপত্তার মধ্যে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির এসএলএসটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার ৩৩টি কেন্দ্রে মোট ১৭ হাজার ৬৫২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। মেদিনীপুর মহকুমায় ২২টি, খড়গপুরে ৭টি এবং ঘাটাল মহকুমায় ৪টি পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতিটি কেন্দ্রে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে কড়া নজরদারি রাখা হয়েছিল। পরীক্ষার্থীদের সকাল ১১:৪৫-এর পর কেন্দ্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলে।

তবে, পরীক্ষা শেষ হতেই হতাশার ছবি সামনে এসেছে। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া চাকরিহারা শিক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা গেছে। নিজেদের অধিকার ফিরে পাওয়ার দাবিতে আন্দোলনকারী এই শিক্ষকরা সরকারি অব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে কালো শার্ট পরে পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন। পরীক্ষা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চাকরিহারা শিক্ষক সংগঠনের নেত্রী সঙ্গীতা সাহা ভেঙে পড়েন এবং জানান, প্রশ্নপত্র অত্যন্ত কঠিন হয়েছে।

সঙ্গীতা সাহার দাবি, দীর্ঘ আন্দোলন এবং আইনি লড়াইয়ের পরও তাঁদের জন্য আলাদাভাবে পরীক্ষা নেওয়ার দাবি সরকার ও বিচারব্যবস্থা উপেক্ষা করেছে। তিনি বলেন, ‘এত আন্দোলন করেও সব বৃথা গেল। আমরা হয়তো আর চাকরিটা বাঁচাতে পারব না।’ তিনি আরও বলেন, গত ৭ তারিখে নবম-দশম শ্রেণির পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তুলনামূলকভাবে সহজ হলেও, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির প্রশ্নপত্র অনেক কঠিন ছিল। এই কঠিন প্রশ্নপত্র নিয়ে হতাশায় ভুগছেন অসংখ্য চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকা, যারা এই পরীক্ষায় নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন।