কীভাবে নতুন প্রজাতিতে রূপ নেয় মাকড়সা? জেনেনিন কি বলছে বিজ্ঞান?

নাচে পারদর্শী ময়ূর মাকড়সাগুলোর ঝলমলে রঙ আর চটপটে নড়াচড়া কেবল এদের আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য নয়, বরং এদের ডিএনএ-তে লুকিয়ে আছে এক বিশাল রহস্য। অন্যান্য প্রাণীর যেখানে মাত্র পাঁচ থেকে দশটি প্রজাতি থাকে, সেখানে এই ময়ূর মাকড়সার রয়েছে একশোরও বেশি প্রজাতি। গবেষকরা এই বিপুল বৈচিত্র্যের পেছনের কারণ খুঁজছেন, আর তাদের ধারণা এই রহস্যের চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে মাকড়সার ‘ডার্ক ডিএনএ’-তে। এই রহস্যময় জেনেটিক কোডটিই তাদের দ্রুত নতুন প্রজাতিতে রূপান্তরিত হতে সাহায্য করছে।

প্রকৃতির রহস্য উন্মোচনে মাকড়সার নাচ! বিজ্ঞানীরা কেন করছেন এই গবেষণা?

এই ক্ষুদ্রাকৃতির মাকড়সাগুলো অস্ট্রেলিয়াজুড়ে পাওয়া যায়। এদের ‘পিকক স্পাইডার’ বা ময়ূর মাকড়সা বলার কারণ হলো, পুরুষ মাকড়সার পেটে থাকে উজ্জ্বল নকশা, যা তারা প্রজননের সময় নাচের মাধ্যমে সঙ্গীকে আকর্ষণ করতে ব্যবহার করে। এই নাচের সময় তারা তাদের পা দিয়ে এক ধরনের ছন্দময় শব্দও তৈরি করে। বিজ্ঞানী জোনাহ ওয়াকার, যিনি প্রথমে মাকড়সা দেখে ভয় পেতেন, এখন এদের বৈচিত্র্যময় নাচ ও জীবনচক্র নিয়ে গবেষণা করছেন। তার মতে, ময়ূর মাকড়সার এই চরম বৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারবেন যে কীভাবে প্রকৃতিতে সাধারণভাবে এতো বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়।

মানুষের চেয়ে তিনগুণ বেশি ‘ডার্ক ডিএনএ’, গবেষকরা যা আবিষ্কার করেছেন!

গবেষক দলটি এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত প্রতিটি প্রজাতির মাকড়সার ডিএনএ, আচরণ, চলাচল এবং গান সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করেছে। গবেষণার মাধ্যমে তারা আবিষ্কার করেছেন যে, এই বিশাল বৈচিত্র্যের পেছনে শুধুমাত্র জিন দায়ী নয়, বরং ডিএনএ-এর বেশিরভাগ অংশ, যা ‘ডার্ক ডিএনএ’ নামে পরিচিত, সেটিও এদের বিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখছে। অবাক করা বিষয় হলো, এই ময়ূর মাকড়সার ‘ডার্ক ডিএনএ’ মানুষের চেয়ে তিন গুণ বেশি। ‘আর্থ বায়োজিনোম প্রজেক্ট’-এর অধীনে এই গবেষণাটি চলছে এবং বিজ্ঞানীরা আশা করছেন যে এর মাধ্যমে তারা জীবজগতের বিবর্তন এবং বিভিন্ন জীবের মধ্যেকার জটিল আন্তঃসম্পর্ক আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবেন।