মোবাইলে ঢুকছে ‘ইনফরমেশন’, তারপরই পড়ছে বোমা! কেন কলকাতার এই এলাকা এখন আতঙ্কের নাম?

মুঠোফোনে আসছে ‘ইনফরমেশন’, আর তারপরই লক্ষ্য করে ছোঁড়া হচ্ছে বোমা! একের পর এক গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, বোমা আর বন্দুকের দাপাদাপিতে কলকাতার একটি অংশ এখন বাস্তবের ‘মির্জাপুর’ হয়ে উঠেছে। কাউন্সিলরকে গুলি করার ঘটনার পর থেকেই শিরোনামে এসেছে ‘গুলশন কলোনি’। স্থানীয়দের অভিযোগ, শাসকদলের গোষ্ঠীকোন্দলে এলাকার সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ।
বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের একাংশ বলছেন, এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে বেশ কিছু জটিল কারণ:
গুলশন কলোনির অশান্তির অন্যতম প্রধান কারণ হল নির্মাণ সিন্ডিকেট। অভিযোগ উঠেছে, এই সিন্ডিকেটকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে কোন্দল চরমে পৌঁছেছে। বেআইনি বহুতল নির্মাণের সিন্ডিকেট নিজেদের দখলে রাখতে মরিয়া শাসকদলের দুই গোষ্ঠী। এই ব্যবসার রাশ নিজেদের হাতে রাখতে পারলেই পকেট ভরবে, এই লোভেই চলছে কোন্দল।
শুধুমাত্র নির্মাণ সিন্ডিকেট নয়, অটো স্ট্যান্ডের দখল নিয়েও লড়াই চলছে। এলাকার অটো-রিকশা স্ট্যান্ডের ইউনিয়ন কার আওতায় থাকবে, তা নিয়ে শাসকদলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে চলছে ক্ষমতার লড়াই। অভিযোগ, এই দ্বৈরথের নেপথ্যে রয়েছেন খোদ শাসকদলেরই বিধায়ক ও কাউন্সিলর।
বিজেপি নেতা সজল ঘোষের দাবি, গুলশন কলোনির এমন দুর্বৃত্তরাজ-এর মূল কারণ হল এখানকার ‘ডেমোগ্রাফি’। তার মতে, এটি একটি ‘রোহিঙ্গা এলাকা’। তিনি আরও বলেন, এই এলাকায় প্রায় দুই লক্ষ বাসিন্দা থাকলেও ভোটার মাত্র তিন হাজার। যদিও এই বিতর্কিত দাবির কোনো সরকারি ভিত্তি নেই, তবে রাজনৈতিক মহলে তা যথেষ্ট জল্পনার সৃষ্টি করেছে।
এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গুলশন কলোনি। শুধু বোমাবাজিই নয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের হুমকিও দিয়ে গেছে দুষ্কৃতীরা। এখন প্রশ্ন, এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি থেকে কবে মুক্তি পাবে এলাকার সাধারণ মানুষ?