দূর্গাপুজোর মণ্ডপে প্রধানমন্ত্রীর ছবি রাখার নির্দেশ, দিল্লি মুখ্যমন্ত্রীকে তুলোধোনা করে মহুয়া বললেন, ‘বাংলার গর্ব বিক্রি হবে না’

দূর্গাপূজা মানে শুধু উৎসব নয়, বাঙালির আবেগ। কিন্তু এই আবেগকেই রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার করার অভিযোগ উঠেছে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত সম্প্রতি পুজো কমিটিগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন, মণ্ডপে মায়ের পায়ের কাছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবি রাখতে। যাতে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে মা দুর্গার আশীর্বাদ পাওয়া যায়। দিল্লির এই মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর থেকেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এই বিষয়ে এবার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর একটি ভিডিও শেয়ার করে মহুয়া মৈত্র নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “একটি জনসংযোগ সংস্থাকে কাজে লাগান, প্রধানমন্ত্রীর যত খুশি ছবি লাগান। কিন্তু বিনামূল্যে বিদ্যুতের লোভ দেখিয়ে মা দুর্গার মণ্ডপে মোদীকে প্রচার করবেন না। বাংলার গর্ব বিক্রির জন্য নয়, মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী।”

মহুয়া এই মন্তব্যের মাধ্যমে দিল্লি সরকারের এমন উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তিনি মনে করেন, ধর্মীয় স্থান বা উৎসবকে রাজনৈতিক প্রচারের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করা অনুচিত।

গত শনিবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত শহরের শতাধিক পুজো কমিটি এবং রামলীলা আয়োজকদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। সেখানে তিনি পূজার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। সব ঠিকঠাকই চলছিল, কিন্তু বৈঠকের শেষে তিনি বলেন, “১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন। সেদিন থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত আমরা ‘সেবাপক্ষ’ পালন করব। এই সময়ে দিল্লিজুড়ে নানারকম সেবামূলক কাজ চলবে। আমি চাই আপনারাও পুজোর দিনগুলোতে কোনো না কোনো সেবামূলক কাজ করুন।”

এরপরই তিনি বিতর্কের জন্ম দিয়ে বলেন, “অবশ্যই প্রত্যেক মণ্ডপে মায়ের মূর্তির পায়ের কাছে প্রধানমন্ত্রীর ছবি রাখুন। যাতে মায়ের আশীর্বাদ পেয়ে তিনি দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে পারেন।” দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশে সেখানকার প্রবাসী বাঙালিরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই মনে করেন, ধর্ম এবং রাজনীতিকে এভাবে মিশিয়ে দেওয়া ঠিক নয়।

এই ঘটনাটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ধর্মীয় উৎসবের মতো সংবেদনশীল বিষয়কেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার চেষ্টা হচ্ছে, যা বহু মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।