আর ‘হাতে বন্দুক’ নয়, এখন ‘মোবাইল ফোন’, জামতাড়ার কুখ্যাত সাইবার গ্যাং প্রধান দুর্গাপুরে গ্রেফতার

মহল্লায় মহল্লায় ডাকাতি এখন অতীত। বর্তমানের অপরাধীরা আপনার পকেটের মোবাইল ফোনকেই হাতিয়ার বানিয়ে সর্বস্ব লুঠ করছে। আর এই সাইবার অপরাধের আখড়া হিসেবে চিহ্নিত ঝাড়খণ্ডের কুখ্যাত জামতাড়া। সেই জামতাড়ার কুখ্যাত সাইবার অপরাধী খগেন দাঁ ও তার সঙ্গী ধানবাদের মিঠুন দাঁ-সহ মোট আটজনকে গ্রেফতার করেছে দুর্গাপুর থানা এবং দুর্গাপুর সাইবার সেলের পুলিশ। সারা দেশের পুলিশের কাছে খগেন দাঁ একজন ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ অপরাধী।

কীভাবে জালে পড়ল জামতাড়া গ্যাং?
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২৮ জুন। এলআইসি-র প্রাক্তন কর্মী মৃণাল কান্তি তিওয়ারি-কে টার্গেট করে এই গ্যাং। হোয়াটসঅ্যাপে একটি ভুয়ো কল আসে, যেখানে কেওয়াইসি আপডেটের কথা বলা হয়। এরপর স্ক্রিন শেয়ার অন করার ফাঁদ পাতা হয় এবং একের পর এক ওটিপি চাওয়া হয়। ফলস্বরূপ, মুহূর্তের মধ্যে তার অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় চার লক্ষ টাকা গায়েব হয়ে যায়। ১ জুলাই তিনি সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তদন্তে নামে। তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য— এই প্রতারণার পেছনে রয়েছে সেই কুখ্যাত জামতাড়া গ্যাং।

পুলিশের বড় সাফল্য
আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার অভিষেক গুপ্তা জানিয়েছেন, এই প্রতারণার টাকা দিয়ে অভিযুক্তরা আড়াই লক্ষ টাকার দুটি দামি মোবাইল এবং প্রায় ৫৫ হাজার টাকার সোনা কিনেছিল। পুলিশের তৎপরতায় সেগুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই চক্রের মাস্টারমাইন্ড খগেন দাঁ নিজেই ফোন করে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলত। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। খগেন দাঁ বিভিন্ন ভাষায় কথা বলতে পারদর্শী এবং দীর্ঘক্ষণ কথা বলে গ্রাহকদের প্রায় সম্মোহিত করে ফেলত।

পুলিশ জানিয়েছে, এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যাংক কর্মী এবং কুরিয়ার সংস্থার বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু হয়েছে। এই সফল অভিযানে দুর্গাপুর সাইবার সেলের অফিসার অতনু বাজপেয়ী-এর ভূমিকা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। তাঁর দুরন্ত নেটওয়ার্কের সাহায্যেই এই কুখ্যাত অপরাধীকে ধরা সম্ভব হয়েছে।