ভয়ঙ্কর ছক! দেশজুড়ে বড়সড় অভিযান, দিল্লি ও রাঁচি থেকে গ্রেপ্তার ২ আইএসআইএস জঙ্গি, আরও ৮ সন্দেহভাজন আটক

দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এক ভয়ংকর সন্ত্রাসবাদী হামলার ছক কষা হচ্ছিল! কিন্তু শেষ মুহূর্তে দিল্লি পুলিশ স্পেশাল সেল, কেন্দ্রীয় সংস্থা এবং ঝাড়খণ্ড অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (ATS)-এর যৌথ অভিযানে ভেস্তে গেল সেই পরিকল্পনা। দেশজুড়ে একাধিক রাজ্যে তল্লাশি চালিয়ে দুই সন্দেহভাজন আইএসআইএস জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অভিযানের ফলে সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের একটি বড় মডিউল ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
দিল্লিতে আফতাব, রাঁচিতে দানিশ গ্রেপ্তার
দিল্লি পুলিশ স্পেশাল সেলের নেতৃত্বে মঙ্গলবার ভোর থেকে অভিযান চালিয়ে মুম্বাইয়ের বাসিন্দা আফতাবকে দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সূত্র অনুযায়ী, আফতাব দীর্ঘদিন ধরে রাজধানী ও তার আশপাশের এলাকায় সক্রিয় ছিল। সে অনলাইন আইএসআইএস মডিউলের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখত এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করত। তার মোবাইল, ল্যাপটপ এবং অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস থেকে আইএসআইএসের প্রোপাগান্ডা ভিডিও এবং চ্যাট লগ উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ঝাড়খণ্ড এটিএস-এর অভিযানে রাঁচির ইসলামনগর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আশার দানিশকে। সে বকেয়ার জেলার পেটারওয়ারের বাসিন্দা হলেও পরিচয় গোপন করে রাঁচিতে ভাড়া থাকত। তার কাছ থেকে একাধিক মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, সিম কার্ড এবং সন্দেহজনক নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, দানিশ অনলাইনে আইএসআইএসের বিভিন্ন কনটেন্টের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং নতুন সদস্য সংগ্রহের কাজ করত।
১২টিরও বেশি জায়গায় তল্লাশি, নজরদারিতে গোয়েন্দারা
এই দুটি গ্রেপ্তারের পর দিল্লি, ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র এবং উত্তর প্রদেশের ১২টিরও বেশি স্থানে তল্লাশি অভিযান চলছে। এখন পর্যন্ত ৮ জনেরও বেশি সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আশঙ্কা করছে, আইএসআইএস একটি সক্রিয় মডিউল তৈরি করে সারা ভারতে নিজেদের জাল বিস্তার করার চেষ্টা করছিল।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, ধৃতরা সোশ্যাল মিডিয়া ও এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করে তরুণদের নিজেদের নেটওয়ার্কে যুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছিল। এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ধৃতদের ডিজিটাল ডিভাইস থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এই জঙ্গি নেটওয়ার্কের পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা চলছে।
এই গ্রেপ্তারের পর দিল্লি, রাঁচি এবং মুম্বাইসহ দেশের সব বড় শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মেট্রো স্টেশন, বিমানবন্দর, রেলস্টেশন এবং জনবহুল এলাকায় বাড়তি নজরদারি বসানো হয়েছে।