নেপালে গৃহযুদ্ধ! জরুরি বৈঠকে মোদী, বন্ধ হলো বিমান চলাচল, জারি হলো কড়া সতর্কতা, আর কী ব্যবস্থা নিল কেন্দ্র?

নেপালের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং হিংসাত্মক পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর তিনি জানান, নেপালের এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত নেপালগামী সমস্ত বিমান পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য খোলা হয়েছে বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর।
নেপালের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় কাঠমান্ডু বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো এবং নেপাল এয়ারলাইন্স-এর মতো বিমান সংস্থাগুলো দিল্লি ও কলকাতা থেকে কাঠমান্ডুগামী সব বিমান বাতিল করেছে। স্পাইস জেটের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, ভারত থেকে নেপালে আসা-যাওয়ার সব বিমান আপাতত স্থগিত থাকবে। এয়ার ইন্ডিয়া সূত্রে খবর, দিল্লি থেকে কাঠমান্ডুগামী একটি বিমান অবতরণের সময় বিমানবন্দরে আগুন ও ধোঁয়া দেখতে পেয়ে মাঝপথেই ফিরে আসতে বাধ্য হয়।
কেন্দ্রীয় সরকার ভারতীয় নাগরিকদের নেপাল ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানিয়েছে। যারা বর্তমানে নেপালে আছেন, তাঁদেরকে বাড়ির বাইরে না বের হতে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য দুটি বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর খোলা হয়েছে: +৯৭৭ ৯৮০৮৬০২৮৮১ এবং +৯৭৭ ৯৮১০৩২৬১৩৪। এই নম্বরগুলোতে সরাসরি ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে।
নেপালের এই পরিস্থিতির প্রভাব যাতে ভারতে না পড়ে, সেই জন্য পশ্চিমবঙ্গ এবং নেপালের সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার জরুরি ভিত্তিতে উত্তরবঙ্গের আইজি এবং দার্জিলিংয়ের এসপির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দার্জিলিংয়ের পানিট্যাঙ্কি অঞ্চলে বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে। র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) এবং কমব্যাট ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। সশস্ত্র সীমা বল (SSB)-ও সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে।