চাপানউতোর শেষে অবশেষে সুর নরম! বন্ধু মোদীর সঙ্গে কথা বলতে চান ট্রাম্প, বদলে গেল চিত্র, নেপথ্যে কী কারণ?

ভারত-আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক চাপানউতোর চরমে পৌঁছানোর পর অবশেষে সুর নরম করলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ না করায় ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছিলেন তিনি। এই পরিস্থিতিতেই ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া ‘ট্রুথ’-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্রুত আলোচনা করার আগ্রহ প্রকাশ করে তাঁকে ‘খুব ভালো বন্ধু’ বলে অভিহিত করেছেন।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, তিনিও ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার জন্য মুখিয়ে আছেন। মোদী ভারতকে আমেরিকার ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং স্বাভাবিক অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার বিষয়ে ভারতের আগ্রহের কথা জানান।

ট্রাম্পের ‘ইউ-টার্ন’ কি ভারতের অনড় অবস্থানের ফল?
চলতি বছরের শুরুতে দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে মোদীর সঙ্গে বৈঠকেও তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ‘ভেরি টাফ নেগোশিয়েটর’ (দর কষাকষিতে কড়া) বলে প্রশংসা করেছিলেন।

কিন্তু এরপরই ভারত-পাকিস্তানের সংঘর্ষবিরতিতে তাঁর হস্তক্ষেপের দাবি এবং রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে ভারতের কঠোর মনোভাবের কারণে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়।

অবশেষে ট্রাম্পের এই বার্তা থেকে অনেকেই মনে করছেন, ভারতের অনড় কূটনৈতিক অবস্থানের কাছে তিনি কিছুটা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন। তবে, ট্রাম্পের অতীত আচরণের দিকে নজর রেখে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভবিষ্যতে তিনি আবার তাঁর এই অবস্থান থেকে সরে আসেন কিনা, তা দেখার বিষয়।