ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে সরব জয়শংকর, ব্রিকস সামিটে নাম না করে কড়া সমালোচনা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর বাণিজ্যনীতির বিরুদ্ধে নাম না করেই কঠোর সমালোচনা করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সামিটে তিনি বলেন, বাণিজ্যনীতি সর্বদা বৈষম্যহীন এবং পারস্পরিক স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে হওয়া উচিত। অহেতুক সমস্যা তৈরি করে কারোর লাভ নেই।

সম্প্রতি আমেরিকা ভারতের উপর ৫০% শুল্ক আরোপ করেছে, যার কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন না হওয়া এবং রুশ তেল কেনা। একই ধরনের ৫০% শুল্কের বোঝা চাপানো হয়েছে ব্রাজিলের উপরও। ট্রাম্পের এই খামখেয়ালি আচরণ নিয়ে খোদ আমেরিকাতেই সমালোচনা চলছে।

এই পরিস্থিতিতে ব্রিকসের ভার্চুয়াল বৈঠকে জয়শংকর বলেন, “বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষেত্রে ব্যবসার ধরন ও বাজারে প্রবেশাধিকার গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সময়ে এমন একটি পরিবেশ দরকার যা বৈষম্যমুক্ত, গঠনমূলক এবং সমন্বয়মূলক।”

জয়শংকর বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে ব্রিকস দেশগুলোকে একজোট হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি মূলত চারটি বিষয়ের ওপর জোর দেন:

সাপ্লাই চেইন শক্তিশালী করা: বাণিজ্য সংকটের মোকাবিলায় ব্রিকস দেশগুলিকে একজোট হওয়ার আবেদন জানান।

বাণিজ্য ঘাটতি কমানো: ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে উভয়ের জন্য লাভজনক পথে হাঁটা উচিত।

বৈশ্বিক সংকটের মোকাবিলা: আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি করোনা, যুদ্ধ ও জলবায়ু সংকটের মতো ঘটনা সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে। তাই তাদের সংস্কার প্রয়োজন।

রাজনীতি মুক্ত বাণিজ্য: জয়শংকর জোর দিয়ে বলেন, রাজনীতিকে বাণিজ্যে প্রবেশ করানো ঠিক নয়। ব্রিকস দেশগুলির উচিত নিজেদের স্বার্থ দূরে সরিয়ে একজোট হয়ে কাজ করা।

চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-সহ মোট ১১টি দেশের প্রতিনিধি এই বৈঠকে অংশ নেন। শি জিনপিং বলেন, “কিছু দেশ বাণিজ্য ও শুল্ক যুদ্ধ শুরু করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্রিকসকে একজোট হয়ে লড়তে হবে।”