আদালতে শ্রীলেখা মিত্র! ‘সামাজিক বয়কটের’ পোস্টার, নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন হাইকোর্টে

অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র তাঁর বাড়ির সামনে ‘সামাজিক বয়কটের’ পোস্টার দেওয়ায় নিরাপত্তা চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। প্রথমে পুলিশে অভিযোগ জানিয়েও কোনো সুফল না পাওয়ায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে এই মামলার শুনানি হতে পারে।

কেন এই পদক্ষেপ?
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ৯ আগস্ট, যখন শ্রীলেখা আরজি করের ঘটনার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরপরই তাঁর কাছে বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কুরুচিকর ফোন আসতে শুরু করে। ১১-১২ আগস্ট নাগাদ তার বাড়ির সামনে একটি পোস্টার লাগানো হয়, যেখানে লেখা ছিল, “অসভ্য শ্রীলেখা মিত্রকে সামাজিক ভাবে বয়কট করুন। এখান থেকে দূর হঠাও।”

অভিনেত্রী জানান, স্থানীয় থানা এবং সাইবার সেলে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি। পোস্টারটি এখনো সেখানেই আছে।

শ্রীলেখার প্রতিক্রিয়া
ইটিভি ভারতকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শ্রীলেখা মিত্র বলেন, “আমি অনেক দিন ধরেই টার্গেট। আমি স্রোতের বিপরীতে হাঁটছি বলেই এমনটা হচ্ছে। আমি যদি সরকারের দলে নাম লেখাতাম, তাহলে আমার জীবনটা সহজ হত।” তিনি আরও বলেন, তিনি নিজেকে একজন শিল্পী মনে করেন, যার সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা আছে।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা কি ভালো? আরজিকর ঘটনার পর আরও কতগুলো ঘটনা ঘটে গেল। পরপর ঘটনাগুলো নিয়ে বললে আরও ব্যানার পড়বে, কিন্তু পুলিশ প্রশাসন কিছু বলবে না। মানুষকে বুঝতে হবে, এটা আজ আমার সঙ্গে হলে কাল আপনার সঙ্গেও হবে।”

রাজনৈতিক বিতর্ক
সামাজিক মাধ্যমে শাশ্বত লাহিড়ী নামে এক ব্যক্তি শ্রীলেখার পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেছেন। তার পোস্টে তিনি লেখেন, “তিনি কি ইডির শমন পেয়েছেন? রেশন দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছে? না, তিনি একজন সচেতন শিল্পী হিসেবে রাজ্যের সীমাহীন চুরি, দুর্নীতি, ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন।”

শ্রীলেখা বলেন, “আমি যদি মুখ্যমন্ত্রীকে দেবী দুর্গা কিংবা মা সারদার সঙ্গে তুলনা করতাম, তাহলে এটা হতো না।” তিনি আরও বলেন, “আমি অন্যায় করিনি কোনো। গণতান্ত্রিক দেশে আমরা বাস করি, বিরোধিতা করতে পারব না? মানুষকে ঠিক-ভুল বুঝতে হবে।” তিনি আক্ষেপ করে জানান, এই ঘটনার পর তার কোনো সহকর্মীর কাছ থেকে কোনো ফোন বা মেসেজ পাননি, কারণ তাদের নিজেদের কাজ টিকিয়ে রাখতে হবে।