‘কেন অযোগ্যদের অ্যাডমিট কার্ড দিলেন?’ হাইকোর্টে বাতিল আবেদন, পাশে থাকার আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর!

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চাকরি হারানো অযোগ্য প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বৃহস্পতিবার রাজ্য রাজনীতিতে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের জন্য নতুন পথের ইঙ্গিত দিয়েছেন, অন্যদিকে কলকাতা হাইকোর্টে আবার তাদের আবেদন খারিজ হয়ে গেছে।

মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস
বৃহস্পতিবার সকালে একটি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাকরি হারানো শিক্ষকদের জন্য মানবিকতার বার্তা দেন। তিনি বলেন, “যাঁদের চাকরি চলে গিয়েছে, তাঁরা সরাসরি শিক্ষক হতে পারবেন না। তবে তাঁদের গ্রুপ সি-তে জায়গা দেওয়ার সম্ভাবনা খোলা রাখা যায় কি না, সে বিষয়ে আইনি পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন যে, রাজ্য সরকার এই বিষয়টি ‘মানবিক দৃষ্টিকোণ’ থেকে দেখছে এবং দ্রুত একটি সমাধান বের করার চেষ্টা করছে।

হাইকোর্টে খারিজ আবেদন
মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অযোগ্য প্রার্থীরা আদালত থেকে ধাক্কা খান। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চে নতুন করে পরীক্ষায় বসার আবেদন খারিজ হওয়ার পর তারা বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন। কিন্তু ডিভিশন বেঞ্চও একক বেঞ্চের রায়ই বহাল রাখে এবং জানিয়ে দেয়, এই মুহূর্তে তারা এই বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না।

শুনানির সময় বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এসএসসি-র আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভর্ৎসনা করে জানতে চান, “কেন আপনারা এই টেন্টেড প্রার্থীদের অ্যাডমিট কার্ড ইস্যু করলেন? যদি জানেন যে তাঁরা পরীক্ষায় বসতে পারবে না, তা সত্ত্বেও?” আইনজীবী জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী অ্যাডমিট কার্ড বাতিল করা হয়েছে।

একই দিনে একদিকে মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস এবং অন্যদিকে আদালতের কঠোর মনোভাবের কারণে চাকরিহারাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাদের ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণভাবে আইনি জটিলতার উপর নির্ভরশীল।