“যাঁরা ১০ বছর চাকরি করেছেন, তাঁদের…?”-শিক্ষক দিবসের আগে মমতার বড় ঘোষণা

শিক্ষক দিবসের ঠিক আগে বৃহস্পতিবার কলকাতার ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে রাজ্যের তরফে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ৭৩ জন শিক্ষককে শিক্ষারত্ন সম্মান ২০২৫ প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি তাঁর বক্তব্যে বাংলার শিক্ষা এবং শিক্ষকদের গৌরবকে তুলে ধরেছেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “যাঁরা দশ বছর ধরে চাকরি করেছেন, তাঁরা আজ অযোগ্য প্রমাণিত হয়েছেন। আমি আইনি পরামর্শ নিচ্ছি। হয়তো তাঁরা শিক্ষক হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন না, কিন্তু তাঁদের অন্তত গ্রুপ সি-র চাকরি দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমাদের সরকার মানবিক সরকার।” এই মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী বাংলার শিক্ষা ও সংস্কৃতির গৌরবময় ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, “একসময় বাংলার অ্যাসেম্বলিতেই সতীদাহ প্রথা রদের বিল পাশ হয়েছিল, যা পরে গোটা দেশে গৃহীত হয়। বিদ্যাসাগর বাল্যবিবাহ রদ করেছিলেন। বাংলাই পথ দেখিয়েছে। আমরা যেন আমাদের অস্তিত্ব ভুলে না যাই।”

শিক্ষার অগ্রগতি ও সম্মাননা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, কন্যাশ্রী, ঐক্যশ্রী, মেধাশ্রীর মতো প্রকল্পগুলোর কারণে রাজ্যে স্কুলছুটের হার প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। তিনি আরও বলেন, এই বছর সেরা স্কুলগুলোর তালিকায় রামকৃষ্ণ মিশন স্কুলগুলোই প্রাধান্য পেয়েছে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা ও খেলাধুলায় উৎকর্ষের জন্য সেরা ১২টি স্কুলকে পুরস্কৃত করা হয়। মোট ৭৩ জন শিক্ষককে শিক্ষারত্ন সম্মান দেওয়া হয়, যাদের মধ্যে ৩৯ জন স্কুলশিক্ষক, ২১ জন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং ১৩ জন ভোকেশনাল ও আইআইটি-সম্পর্কিত শিক্ষক। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু প্রত্যেক শিক্ষকের হাতে মানপত্র, শাল, ঘড়ি, স্মারক, বই ও ২৫ হাজার টাকার চেক তুলে দেন।

মুখ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল শিক্ষককে শিক্ষক দিবসের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “যাঁরা সমাজ গড়েন, যাঁরা শিক্ষালয় গড়েন, তাঁদের আমি সর্বোচ্চ সম্মান করি।”