‘বাংলায় এসআইআর না হলে দিল্লির বুকে আগুন জ্বলবে’, কমিশনকে সরাসরি হুঁশিয়ারি বিজেপির শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরীর

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিহারের মতো পশ্চিমবঙ্গেও ভোটার তালিকায় বিশেষ সংশোধন (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর) প্রক্রিয়া চালুর তোড়জোড় চলছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের আপত্তি থাকায় বিজেপি নেতা ও ইংরেজবাজারের বিধায়ক শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যদি এই রাজ্যে এসআইআর না হয়, তাহলে দিল্লির বুকে আগুন জ্বলবে।

শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী বলেন, “নির্বাচন কমিশন যদি এখানে এসআইআর করতে অসমর্থ হয়, তাহলে আমি একজন নেত্রী হিসেবে বলছি, আমিও নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করব। আমি পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনই হতে দেব না।” তৃণমূলকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “যদি কেউ মনে করে সন্ত্রাস করে নির্বাচন কমিশনকে এখান থেকে ভাগিয়ে দেবে এবং এসআইআর হতে দেবে না, তাহলে তারা ভুল করছেন। দিল্লির বুকে আগুন জ্বলবে।”

সম্প্রতি বিহারে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ৬৫ লাখেরও বেশি নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। ২০০২ সালের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে আর এসআইআর হয়নি। তাই বিজেপি এই প্রক্রিয়া চালুর জন্য চাপ দিচ্ছে। তারা অভিযোগ করেছে যে, আধার কার্ডে ব্যাপক গরমিল রয়েছে, বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কোচবিহার এবং মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলোতে। দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, এসব জেলায় জনসংখ্যা ১০০ জন হলেও আধার কার্ড ইস্যু হয়েছে ১২৩টি, যা প্রমাণ করে এই রাজ্যে অনুপ্রবেশকারীরা ভোট চুরি করে চলেছে।

এসআইআর প্রক্রিয়ায় ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় যাদের নাম আছে, তাদের নাম নতুন তালিকায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে থাকবে। তবে যাদের নাম ২০০২ সালের তালিকায় নেই, তাদের নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য পাসপোর্ট অথবা ১০টি অন্যান্য সরকারি নথির মধ্যে যেকোনো একটি জমা দিতে হবে। এই ক্ষেত্রে আধার বা ভোটার আইডি কার্ডের মতো নথি গ্রহণযোগ্য হবে না, কারণ বিজেপি অভিযোগ করছে যে এই নথিগুলো দালালের মাধ্যমে সহজেই অনুপ্রবেশকারীরা পেয়ে গেছে।