যমুনার জলে ভাসছে একের পরে এক শ্মশানঘাট, ক্রমশ ভয়াবহ হচ্ছে বন্যার পরিস্থিতি

যমুনার জলস্তর ক্রমাগত বাড়ার ফলে দিল্লির পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার যমুনার জলস্তর ২০৭ মিটার অতিক্রম করেছে, যা ১৯৬৩ সালের পর পঞ্চম বারের মতো ঘটল। এর ফলে রাজধানীর নিচু এলাকাগুলোতে বন্যার আশঙ্কা আরও বাড়ছে এবং জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
যমুনার এই ভয়ংকর প্লাবনে রাজধানীর প্রাচীনতম এবং সবচেয়ে ব্যস্ততম শ্মশানঘাট নিগমবোধ ঘাটের পরিস্থিতি খুবই খারাপ। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার যমুনার জল নিগমবোধ ঘাটে ঢুকে পড়লে দুপুর আড়াইটে নাগাদ শেষকৃত্যের কাজ পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হয়। শুধুমাত্র সকাল থেকে যেসব দাহকাজ শুরু হয়েছিল, সেগুলোই কোনোমতে শেষ করা সম্ভব হয়। এই ঘাটে প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০টি দাহ হয় এবং এক সাথে ৪২টি দাহকাজের ব্যবস্থা রয়েছে। নিগমবোধ ঘাটের পাশাপাশি গীতা কলোনি শ্মশানঘাটের অবস্থাও একই রকম।
ভারী বৃষ্টির কারণে ওয়াজিরাবাদ ও হাথনিকুণ্ড ব্যারাজ থেকে প্রতি ঘণ্টায় জল ছাড়া হচ্ছে। এর ফলে যমুনা বাজার, মজুন কা টিলা, কাশ্মীরি গেট, ময়ূর বিহার-সহ একাধিক এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত ১৪ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার রাত ৮টার রেকর্ড অনুযায়ী, যমুনার জলস্তর ছিল ২০৭.৩৯ মিটার এবং হাথনিকুণ্ড ব্যারাজ থেকে ১.৬৮ লক্ষ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে।
এর আগে ২০২৩ সালে দিল্লিতে যমুনার জলস্তর ২০৮.৬৬ মিটার ছুঁয়ে গিয়েছিল। এছাড়া, ১৯৭৮ সালে ২০৭.৪৯ মিটার, ২০১০ সালে ২০৭.১১ মিটার এবং ২০১৩ সালে ২০৭.৩২ মিটার জলস্তর ছুঁয়েছিল। এবারের প্লাবনও সেই ভয়াবহতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। শহরের সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বিভাগ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরন্তর নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। এই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি শুধু জনজীবনই নয়, রাজধানীর ট্র্যাফিক ব্যবস্থাকেও পুরোপুরি ভেঙে দিয়েছে।