DA মামলায় SC-তে বড় যুক্তি রাজ্যের, ‘কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দিতে বাধ্য নই’, কেন টেনে আনা হলো ১৩টি রাজ্যকে?

বকেয়া মহার্ঘ ভাতার (ডিএ) মামলায় সুপ্রিম কোর্টে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির আগে রাজ্যের তরফে শীর্ষ আদালতে ৬২ পাতার লিখিত সাবমিশন জমা দেওয়া হয়েছে। এই সাবমিশনে রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল মূলত দুটি প্রধান যুক্তি তুলে ধরেছেন।

রাজ্যের প্রথম যুক্তি, ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো অনুযায়ী, কোনও রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দিতে আইনত বা সাংবিধানিকভাবে বাধ্য নয়। এর আগে কলকাতা হাইকোর্ট বা ট্রাইব্যুনালও কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার জন্য রাজ্যকে নির্দেশ দেয়নি। তাই রাজ্য সরকার তার নিজস্ব আর্থিক ক্ষমতা অনুযায়ী ডিএ নির্ধারণ করতে পারে।

দ্বিতীয়ত, রাজ্য সরকার দাবি করেছে যে ভারতের প্রায় অর্ধেক রাজ্যই কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেয় না। লিখিত সাবমিশনে বলা হয়েছে, ১৩টি রাজ্য নিজেদের আর্থিক পরিস্থিতি অনুযায়ী ডিএ-র হার নির্ধারণ করে। এই বিষয়টি তুলে ধরে পশ্চিমবঙ্গ সরকার বোঝাতে চেয়েছে যে এটি শুধু তাদের একার সমস্যা নয়, বরং দেশের আরও অনেক রাজ্যের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য।

এর আগে এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যের ওপর বেশ অসন্তুষ্ট হয়েছিল। বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ মেটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যা রাজ্য সরকার মানেনি। সেই সময় বিচারপতি সঞ্জয় করোল মন্তব্য করেছিলেন, “রাজ্য সরকার মহাজনদের মতো আচরণ করছে, টাকা জমিয়ে রেখে অন্য জায়গায় খাটাচ্ছে।” এই মন্তব্যের জবাবে রাজ্য জানিয়েছিল, টাকা মেটাতে গেলে তাদের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিতে হবে এবং বিধানসভায় বিল আনতে হবে, যা সময়সাপেক্ষ।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সাল থেকে ডিএ মামলাটি চলছে, এবং স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল ও কলকাতা হাইকোর্ট হয়ে এটি এখন সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছেছে।