পোষা কুকুরের অধিকার নিয়ে আদালতে মামলা, মহুয়াকে ধমক হাইকোর্টের, কী হচ্ছে হেনরিকে নিয়ে

পোষা কুকুর ‘হেনরি’-র অধিকার নিয়ে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং আইনজীবী জয় অনন্ত দেহদ্রাইয়ের মধ্যে চলা আইনি লড়াই এবার নতুন মোড় নিয়েছে। দিল্লি হাইকোর্ট এই দুজনের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে জানতে চেয়েছে, কেন তারা নিজেদের মধ্যে বসে এই সমস্যার সমাধান করে নিচ্ছেন না।
কী কারণে এই মামলা?
এক সময়ের এই প্রাক্তন প্রেমিক-প্রেমিকা একে অপরের বিরুদ্ধে ঘুষ ও মানহানির মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তাদের এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি Rottweiler প্রজাতির কুকুর, যার নাম হেনরি। দুই পক্ষই দাবি করছে, হেনরির আসল মালিক তারা। মহুয়া মৈত্র দাবি করেন হেনরি তার, কিন্তু যৌথ অধিকার চান। অন্যদিকে, জয় অনন্ত দেহদ্রাই-এর দাবি, মাত্র ৪০ দিন বয়স থেকে হেনরি তার কাছে আছে এবং তিনিই তাকে কিনেছিলেন।
২০২৩ সালে মহুয়া মৈত্র দিল্লি হাইকোর্টে হেনরির অধিকার চেয়ে মামলা করেন। তিনি জয় অনন্তের বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়েছিলেন হেনরিকে নিজের কাছে নিতে। এর জবাবে জয় অনন্ত মহুয়ার বিরুদ্ধে তার বাড়িতে জোর করে ঢোকা এবং হেনরিকে ব্যবহার করে তাকে ভয় দেখানোর অভিযোগ আনেন।
আদালতে যা ঘটল
বুধবার দিল্লি হাইকোর্টে বিচারপতি মহুয়া মৈত্রকে প্রশ্ন করেন, “আপনারা কেন একসঙ্গে বসে সমাধান করতে পারছেন না? মামলায় আপনি কী চান?” মহুয়ার এই যৌথ কাস্টডির আবেদন নিয়েও আদালত প্রশ্ন তোলে।
এদিকে, ট্রায়াল কোর্টের একটি নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেছেন জয় অনন্ত দেহদ্রাই। সেই নির্দেশে বলা হয়েছিল, এই মামলা নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো কথা বলা যাবে না। জয় অনন্তের আইনজীবী সঞ্জয় ঘোষ এই নির্দেশকে মত প্রকাশের স্বাধীনতার লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “মহুয়া মৈত্র একজন সাংসদ। একজন সাংসদ কি সাধারণ মামলার আবেদনকারীর থেকে বেশি অধিকার দাবি করতে পারেন?”
আদালত এই বিষয়ে তৃণমূল সাংসদের কাছ থেকে জবাব চেয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ডিসেম্বরে হবে।