৩.৫ ফুট উচ্চতার আরতি ডোগরা হলেন IAS অফিসার, কিভাবে সম্ভব? জানলে আপনিও খুশি হয়ে যাবেন!

সমাজের প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, একজন মানুষের যোগ্যতা তার উচ্চতা, রূপ বা চেহারা দিয়ে বিচার করা হয়। যারা বেঁটে, মোটা বা কালো, তাদের অনেক সময় অবহেলার শিকার হতে হয়। কিন্তু আইএএস অফিসার আরতি ডোগরার গল্প এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করে দেয়। মাত্র ৩.৫ ফুট লম্বা এই অদম্য নারী সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করে ইউপিএসসি পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করেছেন এবং প্রমাণ করেছেন যে, মানুষের আসল শক্তি তার ভেতরের ইচ্ছাশক্তি।
আরতি ডোগরা হলেন রাজস্থান ক্যাডারের একজন আইএএস অফিসার। ২০০৬ সালে প্রথম প্রচেষ্টাতেই তিনি ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি যোধপুর ডিসকমের (যোধপুর বিদ্যুৎ বিতরণ নিগম লিমিটেড) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং পরে আজমির জেলার কালেক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনিই প্রথম মহিলা আইএএস অফিসার যিনি ডিসকমের এমডি হিসেবে কাজ করেছেন।
উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে জন্ম আরতির। ছোটবেলায় তিনি অন্যান্য শিশুদের থেকে ভিন্ন ছিলেন। যখন সবার উচ্চতা বাড়ছিল, তখন তাঁর উচ্চতা মাত্র ৩.৫ ফুটে থেমে যায়। সমাজের মানুষজন তাঁকে নিয়ে ফিসফিস করত, এমনকি হাসাহাসিও করত। কিন্তু আরতি এসবের তোয়াক্কা করেননি। তাঁর বাবা কর্নেল রাজেন্দ্র ডোগরা এবং মা কুমকুম ডোগরা তাঁকে সবসময় উৎসাহিত করেছেন। বাবা-মায়ের দেওয়া আত্মবিশ্বাসই তাঁর সাহসের ভিত্তি হয়ে ওঠে, যা তাঁকে সব বাধা পেরিয়ে ইতিহাস তৈরি করতে সাহায্য করে।
আরতি ডোগরা দেরাদুন থেকে স্কুলশিক্ষা শেষ করেন। এরপর দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশের সেবা করার তীব্র ইচ্ছা থেকেই তিনি ইউপিএসসি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি শুরু করেন। কঠোর পরিশ্রমের ফলস্বরূপ তিনি প্রথম চেষ্টাতেই আইএএস অফিসার হন।
তাঁর কর্মজীবনেও তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। বুন্দি, বিকানের এবং আজমিরের জেলা কালেক্টর এবং ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি যোধপুর বিদ্যুৎ বিতরণ নিগম লিমিটেডের এমডি হিসেবে তাঁর অসাধারণ কাজের জন্য তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে পুরস্কারও পেয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি তথ্য, প্রযুক্তি এবং যোগাযোগ বিভাগের সচিব হিসেবে কাজ করছেন।
আরতি ডোগরার জীবন আমাদের শেখায় যে, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কোনো বাধা নয়, বরং অদম্য মনোবলই সাফল্যের আসল চাবিকাঠি।