প্রবল বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ল বর্ধমান রাজবাড়ির একাংশ…মন খারাপ স্থানীয় বাসিন্দাদের!

বর্ধমানের ঐতিহাসিক রাজবাড়ির অন্তর্ভুক্ত লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ মন্দিরের নাটমন্দিরের একাংশ ভেঙে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ বা সংস্কার না হওয়ার কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাতে একটানা বৃষ্টির কারণে নাটমন্দিরের স্তম্ভসহ এই অংশটি ধসে পড়ে।

ঐতিহ্যবাহী মন্দিরের বর্তমান অবস্থা
বর্ধমান রাজবাড়ির পাশেই অবস্থিত এই লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ মন্দিরে রাজ পরিবারের কুলদেবতা রাধামাধব জিউ এবং লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ পূজিত হন। এখানে তিনশো বছরের বেশি সময় ধরে পটে আঁকা দুর্গাপ্রতিমা, অর্থাৎ পটেশ্বরী দুর্গার পুজো হয়ে আসছে। এছাড়া রথযাত্রা এবং দোলযাত্রার মতো উৎসব এখানে অত্যন্ত উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত হয়। কিন্তু বর্তমানে মন্দিরের বাইরের দিকে থাকা সুদৃশ্য রাসমঞ্চটিও ভগ্নপ্রায় অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাতে মন্দিরের এই অংশটি তালাবন্ধ থাকে। সকালে পুরোহিতরা এসে এই ভাঙা অংশটি দেখতে পান। তাদের ধারণা, একটানা বৃষ্টির ফলে মন্দিরের ভেতরে জল চুঁইয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

রাজবাড়ি এবং তার ইতিহাস
বর্ধমানের রাজবাড়ীটি মূলত কাঞ্চননগরে ছিল। কিন্তু দামোদর নদীর বারবার বন্যার কারণে এটি বর্তমান বর্ধমান শহরের উত্তর ফটকে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে মেহতাব মঞ্জিল নামে নতুন রাজবাড়ি গড়ে ওঠে, যা এখন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাজবাড়ীর আশেপাশে বিভিন্ন বাজার এবং অন্যান্য ঐতিহাসিক ভবনও গড়ে তোলা হয়।

জনসাধারণের উদ্বেগ এবং দাবি
এলাকার বাসিন্দা জয়দেব মুখোপাধ্যায় বলেন, “এই ঐতিহ্যবাহী মন্দিরটি বর্ধমানবাসীর কাছে অনেক আবেগের। সংস্কারের প্রয়োজন অনেক আগেই ছিল। কিন্তু রাজবাড়ির ট্রাস্টি বোর্ড সম্ভবত সেই বিশাল ব্যয়ভার বহন করতে পারেনি।” তিনি আরও বলেন, এই ঐতিহ্যমণ্ডিত মন্দির ও ভবনের সংস্কারের জন্য প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অবিলম্বে এই ঐতিহাসিক স্থাপনার সংস্কার না হলে এটি আরও ক্ষতির শিকার হতে পারে। বিষয়টি রাজবাড়ি ট্রাস্টকে জানানো হয়েছে।