‘শরীর জুড়ে স্পষ্ট শারীরিক আঘাত..তাহলে কেন চুপ পুলিশ?’ খেজুরিতে ২ বিজেপি কর্মীর মৃত্যুতে শোরগোল

খেজুরি বিজেপি কর্মী সুধীর পাইক ও সুজিত দাসের মৃত্যু মামলায় নতুন মোড় এসেছে। কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এই ঘটনার তদন্তকারী অফিসার (আইও) এবং খেজুরির থানার ওসি-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

আদালতের প্রশ্ন ও পর্যবেক্ষণ
বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি শব্বার রশিদি ডিভিশন বেঞ্চের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এসএসকেএম হাসপাতালে করা ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মৃতদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে। কিন্তু, পুলিশের কোনো বয়ানে এই আঘাতের কথা বলা হয়নি। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, “এটা কি বিশ্বাসযোগ্য? জনমনে কী আস্থা তৈরি হবে এমন কাজে?” এই মন্তব্য পুলিশের তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

সিআইডি-কে সময়সীমা
আদালত এই মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা সিআইডি-কে ৫ দিনের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে।

কল ডিটেইলস রেকর্ড (CDR) পেশের নির্দেশ
হাইকোর্ট প্রথম তদন্তকারী অফিসার, প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক এবং খেজুরি থানার ওসি-র সমস্ত মোবাইল/ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (CDR) আগামী ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট
গত ১১ জুলাই খেজুরির ভাঙনমারি গ্রামে সুধীর পাইক এবং সুজিত দাস নামে দুই বিজেপি কর্মীর মরদেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে তাদের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। যদিও, প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ এবং স্থানীয় শাসকদল তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপি অভিযোগ করেছিল যে রাজনৈতিক কারণে তাদের খুন করা হয়েছে। এই মৃত্যুরহস্য নিয়ে এখন আদালতের হস্তক্ষেপে তদন্ত নতুন মাত্রা পেয়েছে।