ত্রাসের রাজত্ব মালদহে! দাম্পত্য বিবাদ মেটাতে সালিশি সভা ডেকে তোলাবাজি, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ফের প্রশ্ন

পেশায় সিভিক ভলান্টিয়ার হলেও প্রভাব খাটিয়ে গুন্ডাগিরি ও তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে এক তৃণমূল নেতার ঘনিষ্ঠের বিরুদ্ধে। মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের নারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দা তারিখ আনোয়ারের বিরুদ্ধে স্বামী-স্ত্রীর বিবাদ মেটানোর নামে টাকা চাওয়া, অপহরণ এবং দোকানে আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য এবং রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

কী ঘটেছিল?
নারায়ণপুরের বাসিন্দা গোলাম রসুলের সঙ্গে বিহারের এক মহিলার বিয়ে হয়। তাদের মধ্যে বিবাদ মেটাতে স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী ও সিভিক ভলান্টিয়ার তারিখ আনোয়ার একটি সালিশি সভা ডাকেন। সালিশিতে বিবাদ মেটাতে না পেরে তিনি গোলাম রসুলের পরিবারের কাছে দুই লক্ষ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করায় তিনি গোলাম রসুলকে অপহরণের হুমকি দেন। পরে গোলাম রসুলকে বিহার থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

অভিযোগ, এরপর থেকে তারিখ আনোয়ার ক্রমাগত হুমকি দিতে থাকেন যেন অভিযোগপত্র থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হয়। সর্বশেষ ঘটনা হিসেবে গোলাম রসুল এবং তার ভাইয়ের প্রসাধনী সামগ্রীর দোকানে পেট্রল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তাদের দাবি, তারিখ আনোয়ার আগের দিন রাতেই ফোন করে হুমকি দিয়েছিলেন যে ‘বড় ক্ষতি হবে’।

রাজনৈতিক চাপানউতোর
তারিখ আনোয়ার স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী তাজমুল হোসেনের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। এই প্রভাব খাটিয়েই তিনি এসব করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ঘটনার পর তারিখ আনোয়ারের সঙ্গে মন্ত্রীর ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে। স্থানীয় বিজেপি নেতারা এই ঘটনাকে ‘তালিবানি রাজ’ বলে কটাক্ষ করেছেন এবং তারিখ আনোয়ারের গ্রেফতারের দাবি তুলেছেন।

যদিও তারিখ আনোয়ার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। অন্যদিকে, মন্ত্রী তাজমুল হোসেন তারিখ আনোয়ারের পক্ষ নিয়ে বলেন, “অভিযোগ থাকতেই পারে, কিন্তু তার প্রমাণ থাকতে হবে। বাকিটা পুলিশ দেখবে।” তবে তৃণমূলের স্থানীয় নেতারা বলেছেন, এই ঘটনা খতিয়ে দেখা হবে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে, কিন্তু অভিযোগপত্র থেকে নাম বাদ দেওয়ার হুমকির বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন।