‘ঈশ্বরের দেশ’ গ্রিসে বন্ধ হচ্ছে ৭৫০টিরও বেশি স্কুল! কিন্তু কেন? নেপথ্যে যে কারণ লুকিয়ে…..

প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো বিপর্যয়ের কারণে নয়, বরং জনসংখ্যা হ্রাসের ভয়াবহ সংকটে পড়ে গ্রিসে ৭৫০টিরও বেশি স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দেশটিতে জন্মহার এতই কমে গেছে যে এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর। এটি গ্রিসের মোট স্কুলের প্রায় পাঁচ শতাংশ।

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার আগে গ্রিক সরকার এই স্কুলগুলি বন্ধ করার ঘোষণা করেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত বছরে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ১.১১ লক্ষেরও বেশি কমেছে। ২০১৮ সালের তুলনায় এই সংখ্যা ১৯% কম। অনেক স্কুলই ন্যূনতম ১৫ জন শিক্ষার্থীর শর্ত পূরণ করতে না পারায় বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে।

গ্রিসে জন্মহারের এই সংকট শুরু হয়েছে ২০১০ সাল থেকে। ২০১১ সাল থেকে দেশটিতে জন্মহারের চেয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। ২০০১ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে, প্রজননের প্রধান বয়সের গ্রুপ অর্থাৎ ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী মহিলাদের সংখ্যা ৩১% কমেছে। এছাড়াও, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বহু শিক্ষিত গ্রিক নাগরিক ভালো সুযোগের সন্ধানে বিদেশে চলে গেছেন, যা সম্ভাব্য পিতামাতার সংখ্যা আরও কমিয়ে দিয়েছে।

ফিনান্সিয়াল টাইমসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রিসে জন্মহার এখন ১.৩৫-এ নেমে এসেছে, যা ইউরোপের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০২২ সালে দেশে বার্ষিক জন্মের সংখ্যা ছিল ৮০,০০০-এর কম, যেখানে মৃত্যুর সংখ্যা এর প্রায় দ্বিগুণ।