ভেনেজুয়েলার ওষুধের উপর মার্কিন চাপের নেপথ্যে কোন কারণ, নাকি কোনও গোপন এজেন্ডা?

আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে সম্পর্ক বর্তমানে এক নতুন মোড় নিয়েছে। দক্ষিণ ক্যারিবিয়ান সাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এবং হাজার হাজার সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। আমেরিকা দাবি করছে, এই সামরিক পদক্ষেপের মূল কারণ ভেনেজুয়েলায় মাদক চোরাচালান বন্ধ করা। কিন্তু জাতিসংঘের তথ্য ও বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে অন্য একটি চিত্র উঠে আসছে।
আমেরিকা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক চোরাকারবার পরিচালনার অভিযোগ এনেছে এবং তার গ্রেফতারের জন্য পুরস্কার ৫০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়িয়েছে। যদিও আমেরিকা সরাসরি সামরিক হামলার পরিকল্পনা অস্বীকার করেছে, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও তীব্র হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মাদক চোরাচালানের অভিযোগটি কেবল একটি অজুহাত হতে পারে।
জাতিসংঘের তথ্য বলছে, কোকেন উৎপাদন এবং চাষের প্রধান কেন্দ্র হলো কলম্বিয়া, পেরু এবং বলিভিয়ার মতো দেশ। বৈশ্বিক কোকেনের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি উৎপাদিত হয় শুধু কলম্বিয়াতে। অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলা কোনো প্রধান উৎপাদনকারী বা ট্রানজিট রুট নয়। মাদক আটকের পরিসংখ্যানও এই তথ্য সমর্থন করে। কলম্বিয়া, ইকুয়েডর এবং পানামার মতো দেশগুলোতে প্রচুর পরিমাণে মাদক আটক করা হলেও ভেনেজুয়েলার আটককৃত মাদকের পরিমাণ ২ শতাংশেরও কম।
আমেরিকা দাবি করেছে যে, প্রতি বছর ভেনেজুয়েলা দিয়ে প্রায় ২৫০ টন কোকেন পাচার হয়। এই পরিমাণ বিশ্ব উৎপাদনের তুলনায় কম হলেও, এটি সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা যায় না। তবে প্রশ্ন হলো, যদি মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করাই মূল লক্ষ্য হয়, তবে কেন প্রকৃত উৎপাদনকারী দেশগুলোতে সামরিক চাপ বাড়ানো হচ্ছে না? এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
মাদুরো সরকার মাদক পাচারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করেছে, কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। একই সঙ্গে মাদুরোর পরিবারের কিছু সদস্য মাদক পাচারের জন্য মার্কিন আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, যা প্রমাণ করে যে উচ্চ পর্যায়ে দুর্নীতির যোগসূত্র থাকতে পারে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আসল উদ্দেশ্য হলো ভেনেজুয়েলার মাদুরো সরকারের ক্ষমতাচ্যুত করা। প্রেসিডেন্ট মাদুরো নিজেও অভিযোগ করেছেন যে, আমেরিকা সামরিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলায় ক্ষমতা পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র করছে। এর আগে বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে, ওয়াশিংটন ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে সরকার উৎখাতের জন্য গোপন এবং প্রকাশ্য সামরিক অভিযান চালিয়েছিল। এই ইতিহাস থেকে অনেকেরই সন্দেহ আরও বাড়ছে।