ভুয়ো ভাউচার বানিয়ে সরকারি টাকা তোলার অভিযোগ! নদিয়ায় গ্রেফতার কানাইনগরের সিপিএম পঞ্চায়েত প্রধান

ভুয়ো ভাউচার তৈরি করে সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নদিয়ার তেহট্ট মহকুমার কানাইনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের সিপিআইএম প্রধান টগরী ঘোষকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তেহট্ট ১ ব্লকের বিডিও সঞ্জীব সেনের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিকেলে তেহট্ট বাজার এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

অভিযোগ, টগরী ঘোষ সরকারি টাকা নয়ছয় করেছেন। বিডিও-র অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। যদিও সিপিআইএম এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। সিপিএম সদস্য সুবোধ বিশ্বাস অভিযোগ করেন যে, এটি তৃণমূলের ষড়যন্ত্র এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, একই ধরনের একটি পুরনো মামলায় আদালত তাদের পক্ষে রায় দিয়ে জামিন মঞ্জুর করেছিল।

সুবোধ বিশ্বাস আরও দাবি করেন যে, পঞ্চায়েতে তিন লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকার যে অনিয়মের কথা বলা হচ্ছে, তা প্রধান টগরী ঘোষ করেননি, বরং পঞ্চায়েত সচিব এই কাজ করেছেন। সচিব নিজে বিডিও-র কাছে লিখিতভাবে ক্ষমাও চেয়েছেন এবং সেই চিঠির কপি তাদের কাছে আছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন সচিবকে গ্রেফতার করা হলো না এবং কেন বিডিও এমন পদক্ষেপ নিলেন?

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য রজত মণ্ডল এই গ্রেফতারকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “প্রধানকে অনেক আগেই গ্রেফতার করা উচিত ছিল। আমরা এর আগে পঞ্চায়েতের বহু দুর্নীতি প্রমাণ করেছি এবং অভিযোগ দায়ের করেছি।”

এই ঘটনাকে ঘিরে তেহট্ট এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। বিরোধীরা যেখানে শাসকদলের দিকে আঙুল তুলছে, সেখানে শাসক শিবির বলছে— দোষী যেই হোক, আইন তার নিজের পথেই চলবে। এই ঘটনায় সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছে, আসল সত্য কবে সামনে আসবে?