রোজকার চূড়ান্ত দুর্ভোগে মেট্রোর ব্লু লাইন, পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে এবার নতুন কৌশল! কী ব্যবস্থা নিল রেল কর্তৃপক্ষ?

কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার কারণে কলকাতা মেট্রো পরিষেবায় বড় ধরনের জট তৈরি হয়েছে। এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এবং পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু নতুন কৌশল অবলম্বন করছে।

কেন এই জট?
কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশন বন্ধ থাকায় সমস্ত আপ এবং ডাউন ট্রেন শহীদ ক্ষুদিরাম স্টেশনে শেষ হচ্ছে। এর ফলে খালি রেকগুলিকে ডাউন লাইনে ঘুরিয়ে আবারও আপ লাইনে ফিরিয়ে আনতে হচ্ছে, যা রেকের রিভার্সাল টাইম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। এর কারণে মহানায়ক উত্তম কুমার স্টেশনে বেশ কিছু ডাউন ট্রেনকে সংক্ষিপ্ত করে দেওয়া হচ্ছে, যা সামগ্রিক পরিষেবাতে বড় ধরনের জট সৃষ্টি করছে।

সমস্যা সমাধানে মেট্রো কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ:
এই জট কাটাতে এবং পরিষেবা সচল রাখতে মেট্রো রেল নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করছে:

ইয়েলো ও ব্লু লাইনের বিচ্ছেদ: বিমানবন্দর থেকে নোয়াপাড়া পর্যন্ত ইয়েলো লাইন এবং নোয়াপাড়া থেকে শহীদ ক্ষুদিরাম পর্যন্ত ব্লু লাইন পরিষেবা দুটিকে আলাদা করা হচ্ছে। এর ফলে একটি লাইনের সমস্যা অন্যটিকে প্রভাবিত করবে না, যেমনটা গ্রিন এবং ব্লু লাইনের ক্ষেত্রে হয়।

ব্লু লাইনে নিয়ন্ত্রণ: কবি সুভাষ স্টেশনের কারণে সৃষ্ট অতিরিক্ত চাপ কমাতে ব্লু লাইনে ট্রেনের সংখ্যা কমানো হচ্ছে।

রেক পুনর্বিন্যাস: ভিড় এড়াতে বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরুর আগেই নোয়াপাড়ায় ৩টি এবং মহানায়ক উত্তম কুমার স্টেশনে ৩টি রেক প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

কারশেড চালু: মেট্রো ট্রেন চলাচল আরও উন্নত করতে টালিগঞ্জ কারশেড আবারও সচল করা হবে। উৎসবের মরশুমের আগেই এই ব্যবস্থা চালু হয়ে যাবে বলে আশা করা যায়।

সাপ্তাহিক ট্রায়াল: সপ্তাহের দিনের স্বাভাবিক পরিষেবা ব্যাহত না করে, শুধুমাত্র সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত বিষয়গুলি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

মেট্রো কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই পদক্ষেপগুলি দ্রুত এই ক্যাসকেডিং ট্রাফিক জট কমাতে সাহায্য করবে এবং যাত্রীরা স্বস্তি পাবেন।