পাকিস্তানের তিন জায়গায় বোমা বিস্ফোরণ, মৃত্যু কমপক্ষে ২৫ জন

পাকিস্তানজুড়ে এক ভয়ংকর দিন। মঙ্গলবার দেশটির তিন ভিন্ন স্থানে পরপর বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ২৫ জন নিহত এবং অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে বেলুচিস্তানে একটি রাজনৈতিক সভায় আত্মঘাতী হামলায় ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিস্ফোরণস্থলের রাস্তায় মৃতদেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে এবং বহু মানুষ যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন।
বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েট্টার একটি স্টেডিয়ামের পার্কিং লটে বেলুচিস্তান ন্যাশনাল পার্টির আয়োজিত একটি রাজনৈতিক সভা চলছিল। সেখানেই এক আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী বিস্ফোরণ ঘটায়, যাতে ১৪ জন প্রাণ হারান। আহতদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পুলিশ জানিয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো জঙ্গিগোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে এ ঘটনায় বেলুচিস্তানে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বেলুচিস্তান ন্যাশনাল পার্টির প্রধান আখতার মেঙ্গাল জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের ঠিক আগে তিনি সভাস্থল ছেড়ে যাচ্ছিলেন এবং তিনি সুরক্ষিত আছেন।
বেলুচিস্তানের ইরান সীমান্তের কাছে আরেকটি পৃথক বিস্ফোরণে আরও ৫ জন নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, আধাসামরিক বাহিনীর একটি কনভয় লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়, যাতে পাঁচজন জওয়ান প্রাণ হারান এবং চারজন আহত হন।
একই দিনে দেশটির উত্তর-পশ্চিম প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ায় পাক সেনার ঘাঁটিতেও আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি নিয়ে এক আত্মঘাতী জঙ্গি সেনা ঘাঁটির প্রবেশপথে হামলা চালায় এবং আরও পাঁচ জঙ্গি ঘাঁটির ভিতরে ঢুকে পড়ে। এই হামলায় ৬ জন জওয়ান নিহত হন।
পরে পাকিস্তানি সেনার সঙ্গে সংঘর্ষে হামলাকারী জঙ্গিরাও নিহত হয়। ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান নামের একটি জঙ্গিগোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
বেলুচিস্তানে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বিদ্রোহ দমনে হিমশিম খাচ্ছে। এই বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে, বেলুচিস্তানে সহিংসতায় ৭৮২ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এই সাম্প্রতিক হামলাগুলো পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।