বিধায়কের পাইলট কারের ধাক্কায় যুবকের মৃত্যু, শওকত মোল্লার উপর ক্ষোভে ফুঁসছে পরিবার

ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লার কনভয়ের পাইলট কারের ধাক্কায় গুরুতর আহত এক মোটর বাইক চালকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে, যার জেরে পরিবার জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ক্ষুব্ধ পরিবারের সদস্যরা বিধায়ক শওকত মোল্লার ওপর নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।
দুর্ঘটনা ও মৃত্যু
জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লা কনভয় নিয়ে কলকাতায় আসছিলেন। সেই সময় তাঁর পাইলট কারের অ্যাক্সিলারেটর ভেঙে যায় এবং গাড়িটি সামনে থাকা একটি মোটর বাইকে ধাক্কা মারে। গুরুতর আহত অবস্থায় মোটর বাইক চালক মহম্মদ তাজউদ্দিনকে প্রথমে চিত্তরঞ্জন মেডিক্যাল কলেজে এবং পরে এসএসকেএম-এর ট্রমাকেয়ারে ভর্তি করা হয়। সেখানেই মঙ্গলবার বিকেল ৩টা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃত তাজউদ্দিন প্রতিদিনের মতো কাজের জন্য লেদার কমপ্লেক্সে যাচ্ছিলেন। তাঁর পরিবারে মা, স্ত্রী এবং দুটি ছোট সন্তান রয়েছে। তাজউদ্দিনের মৃত্যুতে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে দিশেহারা তাঁর স্ত্রী ও স্বজনরা।
পরিবারের ক্ষোভ
মৃতের স্ত্রী বলেন, “ওঁকে (শওকত মোল্লা) বলুন আমার স্বামীকে এনে দিতে। আমার ছোট বাচ্চা অপেক্ষা করবে ওর বাবার জন্য। উনি তো আস্তে গাড়ি চালান, হেলমেট ছাড়া গাড়ি চালান না।”
মৃতের শ্যালিকা আরও বলেন, “এত কীসের এমার্জেন্সি ছিল যে বিধায়ককে মেরে দিয়ে বেরিয়ে যেতে হল? আমরা ছাড়ব না। ওঁর তো আমাদের কাছে আসা উচিত ছিল। এই বাচ্চাগুলোর দায়িত্ব কে নেবে?”
ঘটনার পর জানা গেছে, পাইলট কারটি প্রথমে একটি ইলেকট্রিক পোস্টে ধাক্কা মারে এবং তারপর বাইকে ধাক্কা দেয়। অল্পের জন্য বিধায়কের গাড়িটি রক্ষা পায়, কারণ চালক সময় মতো ব্রেক কষে গাড়ি থামিয়ে দেন। তবে মোটর বাইকটি সম্পূর্ণ ভেঙে যায় এবং পাইলট কারের সামনের অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিবার এখন এই ঘটনার বিচার চেয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে।