দু’দশক ধরে বন্ধ রেল পরিষেবা, জীবনরেখা ফেরাতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায়

দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা ভীমগড়-পলাস্থলী রেল পরিষেবা পুনরায় চালুর দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন বীরভূমের খয়রাশোল ব্লক এবং সংলগ্ন ঝাড়খণ্ড ও নলা, কুণ্ডহিত অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ। সাধারণ যাত্রী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও বুদ্ধিজীবীরা একজোট হয়ে এই অঞ্চলের ‘জীবনরেখা’ ফিরিয়ে আনার জন্য জোরালো প্রতিবাদ শুরু করেছেন।

কেন বন্ধ হয়েছিল এই পরিষেবা?
এক সময় পূর্ব রেলের অন্ডাল রেলওয়ে ট্র্যাকের অন্তর্গত এই লাইনে ‘পলাস্থলী’ নামে একটি মাত্র যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করত। এটি ছিল স্থানীয় মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যোগাযোগ মাধ্যম। এই ট্রেনটি ভীমগড়, হযরতপুর, রসা এবং বড়রা স্টেশন অতিক্রম করে পলাস্থলীতে পৌঁছাত। কিন্তু প্রায় ২০-২৫ বছর আগে কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ এই পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়, যার ফলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।

জনগণের দুর্দশা
রেল পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই অনুন্নত অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা শেখ সেলিম জানান, “আমাদের ছেলেবেলায় এই ট্রেনটাই ছিল জীবনের অংশ। কলেজ, বাজার, চিকিৎসার জন্য এটিই ছিল একমাত্র ভরসা। ট্রেনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি।”

শিক্ষার্থীদের সমস্যা: উচ্চশিক্ষার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের এখন অনেক দূরে যাতায়াত করতে হয়, যা তাদের পড়াশোনাকে কঠিন করে তুলেছে।

অর্থনৈতিক ক্ষতি: যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চিকিৎসার অভাব: রোগীদের জরুরি চিকিৎসার জন্য দূরবর্তী শহরে যেতে হয়, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ।

এই রেলপথ শুধু যোগাযোগের মাধ্যমই ছিল না, এটি ছিল এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি পুনরায় চালুর দাবিতে এখন স্থানীয় মানুষ একজোট হয়ে আন্দোলনে নেমেছেন, যা এই অঞ্চলের জন্য একটি নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।