কণ্ঠস্বর থেকেই জানা যাবে, আপনি মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত কিনা

কভিড আক্রান্ত কি না ‘সাধারণ ভয়েস রেকর্ডিং ও সূক্ষ্মভাবে সমন্বয় করা এআই অ্যালগরিদমের মাধ্যমেই উচ্চমাত্রার নির্ভুলতা অর্জন করা সম্ভব, যা বলে দেবে কোন রোগী কভিড-১৯ আক্রান্ত।’ বিজ্ঞানীরা এমন এক মোবাইল অ্যাপ তৈরি করছেন, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে যেকোনো ব্যক্তির কণ্ঠস্বর বিশ্লেষণ করে ‘নির্ভুলভাবে’ শনাক্ত করতে পারে কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীকে। বার্সেলোনায় অবস্থিত ‘ইউরোপিয়ান রেসপিরেটরি সোসাইটি ইন্টারন্যাশনাল কংগ্রেসে’ অ্যাপটি গবেষণার জন্য উপস্থাপিত হয়েছে সোমবার, যেখানে তারা খুঁজে পান, রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত ‘ল্যাটারাল ফ্লো’ টেস্টের তুলনায় বেশি নির্ভুল ছিল এটি। ‘এআই’ মডেলটির নির্ভুলতার মাত্রা ছিল ৮৯ শতাংশ।

মাত্র ‘এক মিনিটেরও কম’ সময়ে অ্যাপটি দূরবর্তী এবং ভার্চুয়াল পরীক্ষা করতে পারে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ‘উদাহরণ হিসেবে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে বড় কোনো জনসমাগমের প্রবেশস্থলে, র‌্যাপিড স্ক্রিনিং ব্যবস্থা সক্রিয় করার মাধ্যমে।’ এক বিবৃতিতে বলেছেন, মাসস্ট্রিচ ইউনিভার্সিটির ‘ইনস্টিটিউট অব ডেটা সায়েন্স’ বিভাগের গবেষক ওয়াফা আলজবাওই। কভিড যেহেতু শ্বাসযন্ত্রের ওপরের অংশে এবং কণ্ঠস্বরে প্রভাব ফেলে, সেই কারণে কণ্ঠস্বর বদলে যায় আক্রান্ত ব্যক্তির। অ্যাপটি একবার ফোনে ইনস্টল করার পর নিজের ব্যক্তিগত তথ্য, চিকিৎসার ইতিহাস ও ধূমপান করার অভ্যেস আছে কি না, সেগুলো রেকর্ড করতে হয় অংশগ্রহণকারীকে। এরপর তিনবার কাশি দিয়ে, তিন থেকে পাঁচবার মুখের মাধ্যমে জোরে শ্বাস নিয়ে ও স্ক্রিনে দেখানো একটি ছোট বাক্য তিনবার পড়ার মাধ্যমে শ্বাসযন্ত্রের কয়েকটি আওয়াজ রেকর্ড করতে বলা হয় তাদের।

‘মেল-স্পেক্টোগ্রাম অ্যানালাইসিস’ নামে পরিচিত একটি কণ্ঠস্বর বিশ্লেষণের কৌশল ব্যবহার করেছেন বিজ্ঞানীরা। কণ্ঠে জোরের মাত্রা, শক্তি ও সময় বিবেচনায় কণ্ঠের ভিন্নতার মতো বিভিন্ন ফিচার শনাক্ত করে অংশগ্রহণকারীর কণ্ঠস্বরের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করেছেন তারা। ভিন্ন ভিন্ন এআই মডেল বানিয়ে গবেষকরা খুঁজে বের করেছেন যে, কোনটি কভিড রোগী শনাক্তের জন্য সেরা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *