সতর্কবার্তা! ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়তে চলেছে দিল্লি, ডুবতে পারে একাধিক ঘর-বাড়ি, ফুঁসছে যমুনা

লাগাতার বৃষ্টির জেরে দিল্লিতে ভয়াবহ বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যমুনা নদীর জল বিপদসীমা অতিক্রম করে যাওয়ায় এই সতর্কতা জারি করেছে সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ দফতর। যমুনার উপর অবস্থিত ব্যারেজ থেকে ৩ লক্ষ কিউসেকেরও বেশি জল ছাড়ার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এর ফলে নদীর তীরবর্তী নিচু এলাকাগুলিতে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কী ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন?
দিল্লির সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ দফতর সকল সেক্টর অফিসারকে তাদের নিজ নিজ এলাকায় কঠোর নজরদারি রাখার নির্দেশ দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। নদীর বাঁধের কাছে থাকা লোকজনকে সতর্ক করা হচ্ছে এবং তাদের জন্য ত্রাণ শিবিরও তৈরি করা হয়েছে। ময়ূর বিহারের একটি ত্রাণ শিবিরে তাঁবু তৈরি করে রাখা হয়েছে যাতে বন্যার সময় নদীর তীরবর্তী মানুষ আশ্রয় নিতে পারে।
বিপর্যস্ত দিল্লি
সোমবার রাতভর ভারী বৃষ্টির পর দিল্লির রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে পড়েছে এবং বহু বাড়িতে জল ঢুকে গেছে। এর ফলে দিল্লি-এনসিআর-এর বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে দিল্লি-গুরুগ্রাম সীমান্তে, ভয়াবহ যানজট দেখা দিয়েছে।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে, মঙ্গলবার কিছু ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন।
যান চলাচল বন্ধ
যমুনার জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় রেল বিভাগও সতর্ক হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে দিল্লি রেলসেতুর উপর দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় জল কমিশন (CWC)-এর পরামর্শ অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২০২৩ সালেও দিল্লি এক ভয়াবহ বন্যার সাক্ষী হয়েছিল, যখন ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নিতে হয়েছিল।