পুজোর মুখে ঢুকছে না লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা, বন্ধ গ্যাসে ভর্তুকির টাকাও! কারণ কী?

পুজোর ঠিক আগেই মাথায় হাত পড়েছে বহু মহিলার। তাদের লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা অ্যাকাউন্টে ঢোকা হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে গেছে কেন্দ্রীয় সরকারের উজ্জ্বলা যোজনার ভর্তুকি বাবদ পাওয়া টাকাও। এই ঘটনাটি ঘটেছে মূলত কাটোয়ার একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের সঙ্গে। সব মিলিয়ে তারা মাসে প্রায় দেড় হাজার টাকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

কীভাবে হলো এই ঘটনা?
জানা গেছে, কাটোয়ার বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা স্থানীয় একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়েছিলেন। তাদের অভিযোগ, ব্যাঙ্কের এক এজেন্ট তাদের এই ঋণ নিতে বাধ্য করেছিল। তারা নিয়মিত সেই এজেন্টের কাছেই ঋণের কিস্তি জমা দিতেন এবং বিনিময়ে রশিদ পেতেন। কিন্তু এখন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, সেই টাকা ব্যাঙ্কে জমা পড়েনি এবং এজেন্টের দেওয়া রশিদগুলোও জাল। এই প্রতারণার ফলেই তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ করে দেওয়া হয়েছে, যার কারণে সরকারি প্রকল্পের টাকা ঢোকা বন্ধ হয়ে গেছে।

প্রশাসন ও ব্যাঙ্কের অবস্থান
এই পরিস্থিতিতে মহিলারা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং অভিযোগ করেছেন যে, ওই এজেন্ট তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। বর্তমানে সেই এজেন্টের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঋণের কিস্তির টাকা ঠিকমতো জমা না পড়ায় অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ করা হয়েছে। তারা মহিলাদেরকে আইনি পথে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

এই ঘটনায় একদিকে যেমন সরকারি প্রকল্পের টাকা বন্ধ হয়ে গেছে, তেমনি মহিলারা আর্থিক সঙ্কটের মুখে পড়েছেন। তাদের প্রশ্ন, এই পরিস্থিতিতে তারা কার কাছে যাবেন এবং কীভাবে এই সমস্যার সমাধান হবে।