SCO সম্মেলনে কূটনীতির নতুন খেলা, আমেরিকার চাপ উপেক্ষা করে মোদী-পুতিন-জিনপিংয়ের নতুন জট!

চিনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলন এবার শুধু একটি বৈঠক নয়, বরং ভূরাজনীতির এক নতুন মঞ্চ হয়ে উঠেছে। এই মঞ্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যেভাবে একসঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেছেন, হাত মিলিয়েছেন এবং একে অপরকে আলিঙ্গন করেছেন, তা আন্তর্জাতিক মহলে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, আমেরিকার ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে এই তিন এশীয় শক্তি নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করছে।

মিত্রতার নতুন বার্তা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সম্প্রতি রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর বাণিজ্য শুল্কের চাপ বাড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যখন ওয়াশিংটনের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্ক কিছুটা শীতল, ঠিক তখনই তিয়ানজিনের এই দৃশ্য নতুন এক বার্তা দিচ্ছে। মোদী এবং পুতিনের একসঙ্গে গাড়িতে চড়া, পাশাপাশি হাঁটা এবং তারপর শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁদের উচ্ছ্বসিত আলাপচারিতা প্রমাণ করে যে ভারত তার দীর্ঘদিনের বন্ধু রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙতে সহজে রাজি নয়।

পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেল ভারত
সম্মেলনের একটি বিশেষ মুহূর্তে গ্রুপ ছবি তোলার সময় মোদী এবং পুতিন যখন পাশাপাশি দাঁড়িয়েছিলেন, তখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে দূরে একা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অনেক কূটনীতিকের মতে, এই ছবিটি দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান বাস্তবতাকে তুলে ধরেছে। এটি স্পষ্ট করে যে ভারত-রাশিয়া এবং ভারত-চিনের সম্পর্কের গভীরতা বৃদ্ধি পেয়েছে, আর পাকিস্তান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে।

ভারত-চিন সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথে
এসসিও সম্মেলনের আগে মোদী ও শি-এর মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। দুই নেতাই সীমান্ত সমস্যার একটি “যৌথ, ন্যায্য এবং গ্রহণযোগ্য” সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শুধু সীমান্ত সমস্যা নয়, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার বিষয়েও তারা আলোচনা করেন। শি জিনপিং পরোক্ষভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সমালোচনা করে বলেছেন, ভারত ও চিনের মতো দেশকে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর নেতৃত্ব দিতে হবে।

এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে মোদী একদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে এই বার্তা দিয়েছেন যে ভারত কোনো চাপের কাছে মাথা নত করবে না, অন্যদিকে তিনি চিন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের অবস্থানকে মজবুত করেছেন।